আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) তার আধিপত্য বজায় রেখে আবারও লিগের সর্বোচ্চ বেতনভোগী খেলোয়াড় হিসেবে নিজের অবস্থান মজবুত করেছেন। মঙ্গলবার এমএলএস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এমএলএসপিএ) প্রকাশিত নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইন্টার মিয়ামিতে মেসির বার্ষিক মূল বেতন এখন ২৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেতনভোগী খেলোয়াড় সন হিউং-মিনের আয়ের দ্বিগুণেরও বেশি। সব মিলিয়ে মেসির গ্যারান্টিড ক্ষতিপূরণ বা মোট আয় ২৮.৩ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬৬ কোটি টাকার সমান।
২০২৩ সালে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মেসি যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল অঙ্গনে এক নতুন উন্মাদনা তৈরি করেছেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে তিনি ক্লাবটির সাথে চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। নতুন এই চুক্তির প্রতিফলনই দেখা গেছে এবারের বেতন তালিকায়। উল্লেখ্য যে, এই আয়ের মধ্যে তার বিভিন্ন স্পনসরশিপ বা এনডোর্সমেন্ট ডিল থেকে আসা অর্থ অন্তর্ভুক্ত নয়। এছাড়াও ইন্টার মিয়ামির মালিকানায় অংশীদার হওয়ার যে সুযোগ মেসির রয়েছে, সেটিও এই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে।
এমএলএস-এর এই বেতন তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার তারকা সন হিউং-মিন। টটেনহ্যামের সাবেক এই অধিনায়ক গত বছর লস অ্যাঞ্জেলেস এফসিতে (এলএএফসি) যোগ দেন। সনের মূল বেতন ১০.৩৬ মিলিয়ন ডলার এবং মোট গ্যারান্টিড ক্ষতিপূরণ ১১.২ মিলিয়ন ডলার। তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন মেসির ইন্টার মিয়ামি ও আর্জেন্টিনা সতীর্থ রদ্রিগো ডি পল, যার মোট আয় ৯.৭ মিলিয়ন ডলার। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছেন যথাক্রমে মেক্সিকোর হিরভিং `চাক্কি` লোজানো (৯.৩ মিলিয়ন) এবং আটলান্টা ইউনাইটেডের মিগুয়েল আলমিরন (৭.৯ মিলিয়ন)।
মেসির আগমনে ইন্টার মিয়ামির সামগ্রিক খরচেও বড় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ক্লাবটির মোট পে-রোল বা খেলোয়াড়দের পেছনে খরচ ৫৪.৬ মিলিয়ন ডলার, যা লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খরচ করা দল এলএএফসি-এর তুলনায় ২০ মিলিয়ন ডলার বেশি। গত মৌসুমের শুরুতে মিয়ামির এই খরচ ছিল ৪৬.৮ মিলিয়ন ডলার। বিপরীতে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের মতো দলগুলোর খরচ মাত্র ১১.৭ মিলিয়ন ডলার। পুরো লিগের গড় গ্যারান্টিড ক্ষতিপূরণ বর্তমানে ৬ লাখ ৮৮ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
৩৮ বছর বয়সী লিওনেল মেসি বর্তমানে দারুণ ফর্মে রয়েছেন। আগামী মাসেই আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে মাঠে নামবেন তিনি। গত মৌসুমে ২৯ গোল করে তিনি লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি টানা দ্বিতীয়বারের মতো এমএলএস-এর `মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার` (এমভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন। ইন্টার মিয়ামির হয়ে এখন পর্যন্ত ৬৪টি নিয়মিত মৌসুমের ম্যাচে তার গোলের সংখ্যা ৫৯। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যবসায়িক দিক থেকেও মেসি এমএলএস-কে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
