শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ওআইসির কার্যক্রম জোরদারে সৌদি-ইরাক বৈঠক অনুষ্ঠিত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১৩, ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম

ওআইসির কার্যক্রম জোরদারে সৌদি-ইরাক বৈঠক অনুষ্ঠিত

ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে জেদ্দায় সৌদি আরব ও ইরাকের স্থায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি এবং ওআইসি সচিবালয় নিশ্চিত করেছে। শনিবার জেদ্দায় অবস্থিত সৌদি আরবের স্থায়ী মিশন কার্যালয়ে এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মুসলিম উম্মাহর সামগ্রিক উন্নয়ন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং সমসাময়িক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ওআইসির ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

ওআইসিতে সৌদি আরবের স্থায়ী প্রতিনিধি ডক্টর সালেহ বিন হামাদ আল-সুহাইবানি জেদ্দার এই কূটনৈতিক বৈঠকে ওআইসিতে ইরাকের নবনিযুক্ত স্থায়ী প্রতিনিধি এবং জেদ্দায় নিযুক্ত কনসাল জেনারেল রাষ্ট্রদূত মাওলুদ আহমেদ আল-মাশহাদানির সাথে সাক্ষাৎ করেন। সম্প্রতি রাষ্ট্রদূত আল-মাশহাদানি ওআইসি মহাসচিবের কাছে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র পেশ করার পর এটিই ছিল দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উভয় পক্ষ ওআইসির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সমন্বয় ও নিয়মিত পরামর্শ প্রক্রিয়া আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

মুসলিম বিশ্বের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়ানো এবং ওআইসির বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ করার বিষয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিরা একমত হয়েছেন। বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় মুসলিম উম্মাহর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও political চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ওআইসির কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যৌথ ইসলামী কার্যক্রমের টেকসই বিকাশ, সংস্থার সেবার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওআইসির নেতৃত্বপূর্ণ অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ৫২তম গুরুত্বপূর্ণ আসর বা অধিবেশনের সভাপতিত্ব করছে ইরাক, যা এই বৈঠকটিকে আরও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। সভাপতি রাষ্ট্র হিসেবে ইরাক এবং ওআইসির প্রধান কার্যালয়ের স্বাগতিক দেশ হিসেবে সৌদি আরবের এই যৌথ উদ্যোগকে সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বৈশ্বিক বিশ্লেষকরা। যা কম স্পষ্ট তা হলো, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান আঞ্চলিক রাজনৈতিক মেরুকরণ ওআইসির এই নতুন সংস্কারমুখী পরিকল্পনাগুলোকে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে ঠিক কতটা বড় বাধা সৃষ্টি করবে। ওআইসির এই নতুন গতিশীলতা মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মীমাংসা এবং বৈশ্বিক মঞ্চে ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য মানবিক সংকটে উম্মাহর একক কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

জেদ্দার এই কূটনৈতিক আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল ওআইসির প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও আধুনিকীকরণ করা এবং বিভিন্ন ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের তহবিল তদারকি জোরদার করা। বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরাই একমত হয়েছেন যে মুসলিম বিশ্বের তরুণ প্রজন্মের আধুনিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ওআইসিকে তার নিজস্ব নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। ওআইসির স্থায়ী সচিবালয় এই বৈঠকটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে যে বড় দুই মুসলিম দেশের এমন নিবিড় সমন্বয় ওআইসিকে তার নিজস্ব লক্ষ্য অর্জনে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। আগামী দিনে এই ধরনের বহুপাক্ষিক সংলাপ উম্মাহর ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে দুই রাষ্ট্র আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

banner
Link copied!