মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

ফিলিস্তিনে বসতি নীতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ ও ইসরায়েলের দম্ভ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১৬, ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম

ফিলিস্তিনে বসতি নীতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ ও ইসরায়েলের দম্ভ

ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও তীব্র নিন্দা উপেক্ষা করে অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন বসতি নির্মাণের তহবিল অনুমোদন করেছে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলের উদ্বেগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে ফিলিস্তিনিদের ওপর সামরিক চাপ আরও জোরদার করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি মন্ত্রীকে নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। একই সময়ে ছয়টি পশ্চিমা দেশ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী নেটওয়ার্কগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর বিপরীতে ইসরায়েল উল্টো তাদের বসতি কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলের এই কার্যক্রমকে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট জাতিগত নির্মূল অভিযান হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। মানবাধিকার সংস্থাটির মতে পশ্চিম তীরের কিছু অংশ কার্যত দখল করে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই কৌশল অবলম্বন করছে তেল আবিব। যদিও এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে, কিন্তু তা ইসরায়েলি সরকারের অবস্থানে তেমন কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি।

ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে কয়েক ডজন নতুন বসতির অর্থায়ন অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে এমন সব এলাকাও রয়েছে যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ এবং ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচিত। স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের মাধ্যমে এসব বসতি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। গত তিন দশকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। এটি বর্তমান সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের দৌরাত্ম্য ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত করে তুলেছে। প্রায়ই স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা এবং তাদের কৃষি জমিতে সহিংসতার অভিযোগ ওঠে। এসব বসতি স্থাপনকারীকে আইনি সুরক্ষা দিতেও কাজ করছে বর্তমান ইসরায়েলি প্রশাসন। ফিলিস্তিনি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় সামরিক ঘাঁটি স্থাপন কার্যত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও ক্ষীণ করে দিচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নিষেধাজ্ঞার বার্তা ইসরায়েলি সরকারকে নিরস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে তারা পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে চাইছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করা হলেও তেল আবিব তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে অটল। এই পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা এখন সুদূরপরাহত এবং সাধারণ ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

banner
Link copied!