অবরুদ্ধ গাজা সিটিতে পূর্বে বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ছয়তলা আবাসিক ভবন আকস্মিক ধসে পড়ার ঘটনায় অন্তত কুড়ি জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পাঁচ শিশুসহ বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং এখনো অন্তত একশ জন মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ।
গত রাতের এই আকস্মিক ধসের পর উদ্ধারকাজ চলছে।
উদ্ধারকর্মীরা খালি হাতে এবং অত্যন্ত সীমিত সরঞ্জামের সাহায্যে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার কাছে যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের হাতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছেন এবং শিশুদের কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, উপযুক্ত ভারী যন্ত্রপাতি না থাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত মানুষদের উদ্ধার করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ভবনটি বিগত সামরিক অভিযানে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের শিকার হয়ে মারাত্মকভাবে ফাটলধরা ও কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। অবরুদ্ধ এলাকায় নতুন নির্মাণসামগ্রী প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ভবনগুলো মেরামত করা সম্ভব হয়নি। নিরাপদ আশ্রয়ের বিকল্প কোনো কেন্দ্র বা উপযুক্ত তাবু না থাকায় হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ এই ধরনের অত্যন্ত বিপজ্জনক ও জীর্ণ ভবনে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি অঞ্চলের মানবিক সমন্বয়কারী রামিজ আলাকবারভ এই দুর্ঘটনায় গভীর বেদনা প্রকাশ করেছেন। তিনি সংকটের মুহূর্তে ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পাঠাতে এগিয়ে আসার জন্য মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো দেশগুলোর দ্রুত ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং প্রতি মুহূর্তের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এদিকে উদ্ধারকৃতদের স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকরা আহতদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা নিখোঁজ মানুষদের উদ্ধারে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা কাজ অব্যাহত রেখেছেন।
