রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইরানের কাছে কি হারছেন ট্রাম্প? তিন মাস পর বড় প্রশ্ন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৪, ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

ইরানের কাছে কি হারছেন ট্রাম্প? তিন মাস পর বড় প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক লড়াইয়ের প্রতিটি পর্যায়ে সাফল্যের দাবি করলেও, তিন মাস পর এখন পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নিচ্ছে। কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ এখন প্রশ্ন তুলছেন—ট্রাম্প কি শেষ পর্যন্ত পুরো যুদ্ধটাই হারতে বসেছেন? ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের শক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যা ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের এক কূটনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।সামরিক সাফল্যকে ভূ-রাজনৈতিক জয়ে রূপ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন ট্রাম্প।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ‘পূর্ণ বিজয়’-এর দাবি বর্তমানে অনেকটাই ফাঁপা শোনাচ্ছে। একদিকে অনিশ্চিত কূটনীতি, অন্যদিকে মাঝেমধ্যে হামলা শুরুর হুমকি—এই দুইয়ের দোলাচলে আটকা পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, দেশটি তাদের কৌশলগত প্রভাব ধরে রাখতে পেরেছে। তারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহে প্রভাব ফেলার সক্ষমতা এখনো তাদের কব্জায়।

সাবেক মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য আলোচক অ্যারোন ডেভিড মিলার মনে করেন, যে যুদ্ধটিকে ট্রাম্প স্বল্পমেয়াদি সহজ বিজয় হিসেবে পরিকল্পনা করেছিলেন, তা এখন দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ব্যর্থতার দিকে গড়াচ্ছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ওলিভিয়া ওয়ালেস যদিও দাবি করেছেন যে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ তার সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে, কিন্তু বাস্তবে ট্রাম্প এমন এক পরিস্থিতিতে পড়েছেন যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েও তিনি একটি তুলনামূলক দুর্বল রাষ্ট্রকে পুরোপুরি দমন করতে পারেননি।

ট্রাম্পের জন্য এই সংকট অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মাঠেও চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং যুদ্ধ নিয়ে জনমতের নেতিবাচক প্রভাব তার রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এখন তার সামনে পথ মাত্র দুটি—হয় কোনো অসম্পূর্ণ সমঝোতা মেনে নিয়ে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসা, অথবা সামরিক অভিযান বাড়িয়ে আরও দীর্ঘ সংকটে জড়িয়ে পড়া। ট্রাম্প নিজেকে ‘পরাজিত’ হিসেবে দেখাতে না চাইলেও, সময় তার হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে।

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের পথ বন্ধ করা এবং শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তন করার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ট্রাম্প দেখিয়েছিলেন, তা অর্জিত হয়নি। বিমান হামলার পরও ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম মজুত ও পারমাণবিক সক্ষমতা বজায় থাকায় ইরান বরং ভবিষ্যতের জন্য আত্মরক্ষামূলক অবস্থান নিতে উৎসাহিত বোধ করছে। ভিয়েতনাম বা আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনীর প্রস্থানকেও এই পরাজয়ের তুলনায় তুচ্ছ মনে করছেন অনেক গবেষক।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে শিক্ষা নিচ্ছে চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো।

banner
Link copied!