ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তুরস্কের ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। তার মূল লক্ষ্য হলো মিত্র দেশগুলোর কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য জোরালো দাবি জানানো। রাজধানী কিয়েভে সাম্প্রতিক রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই চাহিদা আরও তীব্র হয়েছে। বিবিসি নিউজের তথ্যমতে, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অনেক বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছে এবং আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে।
জেলেনস্কি এই সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন। তার যুক্তি হলো, রাশিয়া যে ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে তা তাদের শক্তির প্রতীক নয় বরং দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি পুতিনকে মর্যাদাপূর্ণ শান্তির আলোচনার দিকে ঠেলে দিতে চাপ প্রয়োগ করতে চান। তবে কিয়েভ নিজেও রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার এবং সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দেশটিতে জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট তৈরি করেছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন দাবি করেছেন যে ইউক্রেনের ছোড়া অনেক ড্রোন তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে। তবে রাশিয়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পেট্রোল কেনার জন্য মানুষ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতি নির্দেশ করে যে ইউক্রেনের পাল্টা আঘাত রাশিয়ার ওপর প্রভাব ফেলছে।
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট সদস্য দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহে নিজেদের ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে আকাশ যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ায় রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেনের কাছে পর্যাপ্ত প্যাট্রিওট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের অভাব রয়েছে। জেলেনস্কি সোমবার এক ভিডিও বার্তায় এই ঘাটতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
ইউক্রেনের দাবি, ইউরোপীয় মিত্রদের হাতে থাকা প্যাট্রিওট ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অবিলম্বে ইউক্রেনকে হস্তান্তর করা প্রয়োজন। জেলেনস্কি বিশ্বাস করেন যে রাশিয়া এখন ব্যালিস্টিক অস্ত্রের ওপর নির্ভর করছে, তাই শান্তি রক্ষায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। তবে বিশ্বে প্যাট্রিওট সিস্টেমের সংকট থাকায় এটি কতটুকু সফল হবে তা স্পষ্ট নয়। জেলেনস্কি ন্যাটোর সহায়তায় ইউক্রেনে নিজস্ব প্রযুক্তিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির কথাও ভাবছেন।
শীতকাল আসার আগে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কিয়েভ তার চাপ অব্যাহত রেখেছে। জেলেনস্কি মিত্রদের বোঝাতে চান যে ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং যথাযথ সহায়তা পেলে রাশিয়াকে আলোচনায় বাধ্য করা সম্ভব। তবে এর জন্য শহর ও নাগরিকদের রক্ষা করা সবার আগে জরুরি। রাশিয়া দীর্ঘ সময় ধরে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং এখন মস্কো ইউক্রেনের তেল শোধনাগারে হামলার জন্য কিয়েভকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ তুলছে। জেলেনস্কি একে একটি প্রভাব বিস্তারের প্রচারণা হিসেবে দেখছেন এবং ন্যাটোর কাছে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করতে আগ্রহী।
