যুক্তরাজ্যের ডানপন্থি রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ এখন একটি বড় ধরনের আইনি ও সংসদীয় সংকটের মুখে পড়েছেন। পার্লামেন্টারি কমিশনার ফর স্ট্যান্ডার্ডস ফারাজের বিরুদ্ধে ৬.৭ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি বিশাল উপহার নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে রিফর্ম ইউকে বড় ধরনের সাফল্য পাওয়ার ঠিক কয়েক দিনের মাথায় এই তদন্তের খবর সামনে এলো। রয়টার্স জানিয়েছে যে বুধবার রিফর্ম ইউকের একজন মুখপাত্র সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী এই অর্থ ছিল একটি ব্যক্তিগত এবং নিঃশর্ত উপহার এবং ফারাজ কোনো সংসদীয় নিয়ম ভঙ্গ করেননি।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে থাইল্যান্ড ভিত্তিক ব্রিটিশ ধনকুবের এবং ক্রিপ্টো মুদ্রার বিনিয়োগকারী ক্রিস্টোফার হারবোর্নের দেওয়া একটি বিশাল অঙ্কের অর্থ। ফারাজ দাবি করেছেন যে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার খরচ মেটানোর জন্য তিনি হারবোর্নের কাছ থেকে এই উপহার গ্রহণ করেছিলেন। তার মতে এটি কোনো রাজনৈতিক অনুদান ছিল না। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এপ্রিল মাসে অভিযোগ তোলে যে ফারাজ সংসদীয় নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। ব্রিটেনের নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যে নির্বাচনের পূর্ববর্তী এক বছরে পাওয়া সব ধরনের বড় অনুদান বা উপহার ঘোষণা করতে হয়। ফারাজ সেই ঘোষণা সময়মতো করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাইজেল ফারাজের দল গত বছর থেকেই ব্রিটেনের রাজনীতিতে জনমত জরিপে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে গত সপ্তাহের নির্বাচনে তারা প্রায় ৫০০০টি স্থানীয় আসনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জয় পেয়েছে যা লেবার পার্টির শক্ত ঘাঁটিগুলোতেও তাদের প্রভাব প্রমাণ করেছে। তবে এই রাজনৈতিক উত্থানের পাশাপাশি দলটির অর্থের উৎস নিয়ে এখন তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী গত বছর রিফর্ম ইউকের মোট তহবিলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই এসেছিল ক্রিস্টোফার হারবোর্নের কাছ থেকে। বিরোধীরা বলছেন ফারাজ নিজেকে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরলেও পর্দার আড়ালে তিনি বিদেশি কোটিপতিদের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল।
সংসদীয় তদন্তে যদি ফারাজ গুরুতর নিয়ম ভঙ্গের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন তবে তাকে হাউস অফ কমন্স থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাময়িক বহিষ্কার বা সাসপেন্ড করা হতে পারে। সংসদীয় বিধি অনুযায়ী যদি কোনো সদস্য ১০ দিন বা তার বেশি সময়ের জন্য সাসপেন্ড হন তবে তার নির্বাচনি এলাকায় একটি `রিকল পিটিশন` বা পুনরায় ভোট ডাকার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এর ফলে ফারাজকে তার এমপি পদ রক্ষার জন্য পুনরায় উপ-নির্বাচনে লড়তে হতে পারে। এর আগেও এই বছরের শুরুর দিকে গুগলে এবং ইলন মাস্কের এক্স কর্পোরেশন থেকে পাওয়া অর্থ ঘোষণা না করার কারণে ফারাজ ১৭টি নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন। সেই সময় কর্তৃপক্ষ সেটিকে প্রশাসনিক ভুল বলে বিবেচনা করলেও এবারের ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিষয়টি ফারাজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
