শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের সব দায় নিলেন মার্সেলো বিয়েলসা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ২৭, ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের সব দায় নিলেন মার্সেলো বিয়েলসা

ছবি : সংগৃহীত

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্ব থেকে উরুগুয়ের ফুটবল দলের অপ্রত্যাশিত বিদায়ের পর দলের প্রধান কোচ মার্সেলো বিয়েলসা শনিবার এই ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে। আমেরিকার মাঠে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্পেনের কাছে এক-শূন্য গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে छিটকে গেছে দক্ষিণ আমেরিকার এই পরাশক্তি। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচের একটিতেও জয় না পেয়ে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানির দিক থেকে বিদায় নিতে হয়েছে উরুগুয়েকে। একই গ্রুপ থেকে নতুন দল কেপ ভার্দে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে পরবর্তী রাউন্ডে চলে গেছে এবং স্পেন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার র্যাংকিংয়ের উনিশতম স্থানে থাকা উরুগুয়েই চলতি বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত বিদায় নেওয়া সবচেয়ে উচ্চসারির দল হওয়ায় এই ঘটনাটি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বেশ আলোড়ন তৈরি করেছে।

সত্তর বছর বয়সী অভিজ্ঞ আর্জেন্টাইন কৌশলবিদ মার্সেলো বিয়েলসা ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত হতাশাজনক বক্তব্য দেন এবং নিজের কাজের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি জানান যে উরুগুয়ের ফুটবলের জন্য তিনি ভালো কিছুই রেখে যেতে পারেননি কারণ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না এলে দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর পরিশ্রমের কোনো স্থায়ী ভিত্তি তৈরি হয় না। তার মতে, বাছাইপর্বের চতুর্থ স্থান বা কোপা আমেরিকার তৃতীয় স্থান অর্জন করার মতো পূর্বের সাফল্যগুলো এই বড় টুর্নামেন্টের ব্যর্থতার সামনে সম্পূর্ণ অর্থহীন হয়ে গেছে। দলের ফুটবলারদের উচ্চমান থাকা সত্ত্বেও তাদের কাছ থেকে সেরা পারফরম্যান্স বের করতে না পারার দায় তিনি নিজের ভুল পরিকল্পনার উপরই চাপিয়েছেন।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল লিডস ইউনাইটেডের সাবেক এই প্রশিক্ষক অতীতেও নিজের কাজের ধরনকে বিষাক্ত নিখুঁতবাদ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। গত বছর নভেম্বর মাসে আমেরিকার কাছে পাঁচ-এক গোলে পরাজিত হওয়ার পর তিনি খেলোয়াড়দের সাথে নিজের কঠোর আচরণের বিষয়ে অনেক অভিযোগ পেয়েছিলেন বলে জনসমক্ষে স্বীকার করেন। বিশ্বকাপের আগে উরুগুয়ে দলের অভ্যন্তরীণ ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের মাঝে এক ধরনের বিদ্রোহের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল, যা দলের মাঠের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা মনে করছেন। উত্তর আমেরিকার এই যৌথ টুর্নামেন্ট শেষেই উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাথে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল এবং তিনি আগেই দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

যা কম স্পষ্ট তা হলো এই চরম বিপর্যয়ের পর উরুগুয়ের ফুটবল ফেডারেশন তাদের জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনে এবং নতুন খেলোয়াড়দের তৈরি করতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বিদায়ী এই কোচ মনে করেন যে মাঠের পারফরম্যান্স এবং আক্রমণের সংখ্যা বিবেচনায় তারা তিনটি ম্যাচ থেকে অন্তত সাত পয়েন্ট পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাদের মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। পুরো টুর্নামেন্টে উরুগুয়ের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হন এবং গোল করার সুবর্ণ সুযোগগুলো হাতছাড়া করেন, যা তাদের বিদায়কে ত্বরান্বিত করেছে।

বিয়েলসার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কোচিং ক্যারিয়ারে এটি দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার ঘটনা। এর আগে দুই হাজার দুই সালের কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে তার অধীনে থাকা শক্তিশালী আর্জেন্টিনা দল একইভাবে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছিল। অন্যদিকে দুই হাজার দশ সালের বিশ্বকাপে চিলির প্রধান কোচ হিসেবে নকআউট পর্বে পৌঁছানোই ছিল এখন পর্যন্ত তার বিশ্বমঞ্চের সেরা সাফল্য। উরুগুয়ের এই বিদায় দলটির বেশ কয়েকজন প্রবীণ খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দুঃখজনক সমাপ্তি ঘটাতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন এবং এখন দলটিকে নতুন করে গড়ে তোলার বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

banner
Link copied!