শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ওপেনএআইকে টপকে বিশ্বসেরা অ্যানথ্রোপিক

ওপেনএআইকে টপকে বিশ্বসেরা অ্যানথ্রোপিক

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৯, ২০২৬, ১১:৩১ এএম

ওপেনএআইকে টপকে বিশ্বসেরা অ্যানথ্রোপিক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের শীর্ষস্থান দখলে এবার বড় ধরনের ওলটপালট হয়েছে। জনপ্রিয় চ্যাটবট ক্লোড-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক এবার ওপেনএআইকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্টার্টআপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নতুন করে বিশাল অংকের তহবিল সংগ্রহের পর প্রতিষ্ঠানটির বাজার মূল্যায়ন আকাশচুম্বী উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই নতুন আর্থিক অগ্রগতির পর প্রযুক্তি বিশ্বে একচেটিয়া আধিপত্যের লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠল।প্রতিষ্ঠানটির বাজার মূল্যায়ন এখন ৯৬৫ বিলিয়ন ডলার।

বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অ্যানথ্রোপিক জানায়, তারা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নতুন করে ৬৫ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে। ওল্টিমিটার ক্যাপিটাল, গ্রিনওকস, ড্রাগনিয়ার এবং সিকোয়ার ক্যাপিটালের মতো বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই অর্থায়নে নেতৃত্ব দিয়েছে। এই বিশাল পুঁজি অ্যানথ্রোপিককে সরাসরি চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর ওপরে নিয়ে গেছে। গত মার্চ মাসে সর্বশেষ দফার অর্থায়নে ওপেনএআই-এর বাজার মূল্যায়ন ধরা হয়েছিল ৮৫২ বিলিয়ন ডলার।

অ্যানথ্রোপিকের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা কৃষ্ণা রাও এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই তহবিল তাদের পণ্যের অভূতপূর্ব বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একদম সম্মুখ সারিতে অবস্থান ধরে রাখতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে ক্লোড চ্যাটবটকে পেশাদার কাজের আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। অন্যদিকে ওল্টিমিটার ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী ব্রাড গার্স্টনার এআই খাতে অ্যানথ্রোপিকের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। বিশ্বের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন এবং বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে ক্লোড ব্যবহার শুরু করেছে, তাতেই এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয় বলে তিনি মনে করেন।

সিলিকন ভ্যালির এই নতুন পরাশক্তি অ্যানথ্রোপিক ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ওপেনএআই-এরই কয়েকজন সাবেক গবেষকের হাত ধরে। প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধান নির্বাহী ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা দানিও আমোদেই। ২০২৩ সালে প্রথম বাজারে আসার পর থেকেই তাদের তৈরি ক্লোড চ্যাটবটটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে। চলতি বছরের মার্চ মাসেই কোম্পানিটি জানিয়েছিল যে, তাদের চ্যাটবটে প্রতিদিন ১০ লাখেরও বেশি নতুন ব্যবহারকারী যুক্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং সফটওয়্যার কোডিংয়ের ক্ষেত্রে ক্লোড এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে এই বিপুল ব্যবসায়িক সফলতার পাশাপাশি অ্যানথ্রোপিককে কিছু ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হতে হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাদের সাম্প্রতিক বিরোধ বেশ আলোচনায় আসে। সামরিক উদ্দেশ্যে নিজেদের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল অ্যানথ্রোপিক। এর জের ধরে মার্কিন প্রশাসন কোম্পানিটিকে তাদের দেশের জন্য সরবরাহ চেইন ঝুঁকি বা সাপ্লাই চেইন রিস্ক হিসেবে চিহ্নিত করে। এই বিতর্কের মধ্যেই বৃহস্পতিবার তারা ক্লোড-এর সর্বশেষ সংস্করণ ‍‍`ওপাস ৪.৮‍‍` বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতের ইতিহাসে কোনো স্টার্টআপের এত দ্রুত মূল্যায়ন বৃদ্ধির ঘটনা নজিরবিহীন। অ্যানথ্রোপিক, ওপেনএআই এবং ইলন মাস্কের স্পেসএক্স অদূর ভবিষ্যতে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিটের ইতিহাসে এগুলোকে সবচেয়ে বড় প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। প্রযুক্তি খাতের তীব্র প্রতিযোগিতায় যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান টিকে থাকবে, তারা দীর্ঘমেয়াদে একচেটিয়া মুনাফা অর্জন করবে বলেই বাজার বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।

banner
Link copied!