বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

লেবাননে রাতভর ইসরায়েলি বিমান হামলায় শিশুসহ ৩১ জন নিহত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৭, ২০২৬, ১২:০১ পিএম

লেবাননে রাতভর ইসরায়েলি বিমান হামলায় শিশুসহ ৩১ জন নিহত

লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও তীব্র করার বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরপরই দেশটির দক্ষিণ ও পূর্ব অঞ্চলে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। রাতভর চালানো এই নজিরবিহীন বোমাবর্ষণে শিশু ও নারীসহ অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিকে সবচেয়ে মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।আকস্মিক এই হামলার পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হাজার হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে রাতের অন্ধকারেই রাস্তায় নেমে আসেন, যার ফলে মহাসড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর ১০০টিরও বেশি কৌশলগত অবকাঠামো, অস্ত্রাগার এবং যোদ্ধা আস্তানা লক্ষ্য করে এই সুনির্দিষ্ট হামলা পরিচালনা করেছে। এর আগে মঙ্গলবার নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেন যে, লেবাননে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) অভিযান আরও গভীরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, পূর্ব লেবাননের বেকা উপত্যকার মাশগারা গ্রাম এবং দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ আল-শামালি এলাকায় সবচেয়ে বেশি বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। এমনকি ইউনেস্কো স্বীকৃত বিখ্যাত ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গের কাছাকাছি এলাকাও এই হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি। মাশগারা গ্রামে বিমান হামলায় বেশ কয়েকটি বহুতল আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ মাটির সাথে মিশে যায় এবং সেখান থেকেই পরবর্তীতে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া সাত বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যার পরিবার এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছে। বর্তমানে মাশগারা ও তার আশেপাশের এলাকাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ দূরত্বের দিকে চলে যাচ্ছেন। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদরাই দাবি করেছেন, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ক্রমাগত যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের জবাব দিতেই তারা এই পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছেন।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলি আগ্রাসন ও যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের প্রতিক্রিয়ায় তারা উত্তর ইসরায়েলের তিনটি সামরিক ব্যারাক ও একটি বিশেষ পোস্টে ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন দফার এই সংঘাতে হিজবুল্লাহর হামলায় এখন পর্যন্ত ২৩ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। বিপরীতে, লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১৮৫ জন ছাড়িয়ে গেছে।

banner
Link copied!