সোমবার, ০১ জুন, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৩১, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার

গাজা উপত্যকায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নজিরবিহীন গণহত্যা ও বর্বর বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ হাজার ৯৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটিতে চলমান এই ভয়াবহ ও দীর্ঘমেয়াদী সামরিক আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ৭২ হাজার ৯২৭ জন ফিলিস্তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। গাজার স্থানীয় ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো রবিবার এই হাহাকারপূর্ণ তথ্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে পুরো উপত্যকাটি এখন এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়গুলোর একটি।

উপত্যকাটির সার্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবনতি এবং সর্বশেষ চব্বিশ ঘণ্টার পরিস্থিতি জানিয়ে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের দৈনিক প্রতিবেদনে বলেছে যে, শেষ চব্বিশ ঘণ্টায় বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় নিহত মাত্র একজন ফিলিস্তিনির মরদেহ আনা সম্ভব হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে নতুন করে আরও আটজন গুরুতর আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের চিকিৎসাকর্মী ও উদ্ধারকারী দলগুলো জানিয়েছে যে, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র সামরিক অবরোধ, অনবরত বোমাবর্ষণ এবং ধসে পড়া বহুতল ভবনের বিশাল ধ্বংসস্তূপের কারণে শত শত নিখোঁজ মানুষের মরদেহ এখনো বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে আছে, যাদের উদ্ধার করা বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এই আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে আরও একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও চাঞ্চল্যকর ঐতিহাসিক তথ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে উঠে এসেছে। সেখানে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিগত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় উপত্যকাটিতে একটি আনুষ্ঠানিক ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার ঘোষণা আসার পর থেকেও ইসরায়েলি আগ্রাসন পুরোপুরি থমকে যায়নি। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরবর্তী সময়কাল থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন চোরাগোপ্তা, আকস্মিক ও বিমান হামলায় নতুন করে আরও ৯৩০ জন ফিলিস্তিনি নিরীহ নাগরিক নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে এই তথাকথিত শান্তিকালীন সময়ে ইসরায়েলি বুলেটের আঘাতে আরও ২ হাজার ৮১৯ জন ফিলিস্তিনি গুরুতর শারীরিক জখম বা আহতের শিকার হয়েছেন।

 মানবিক সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুসারে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলের এই একতরফা ধারাবাহিক নৃশংসতা ও চোরাগোপ্তা হামলা উপত্যকাটিতে চলমান মানবিক সংকট ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাকে এক চরম ও অবর্ণনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। গাজার একমাত্র সচল ল্যাবরেটরি ও হাসপাতালগুলোর অধিকাংশেরই চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মজুদ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে, যা আহতদের বাঁচিয়ে রাখার প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, যথাযথ অ্যান্টিবায়োটিক এবং অস্ত্রোপচারের সরঞ্জামের অভাবে অনেক সামান্য আঘতের রোগীও দীর্ঘস্থায়ী পঙ্গুত্ব বা মৃত্যুর দিকে ঢাবিত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার এই অঞ্চলে পূর্ণাঙ্গ মানবিক করিডোর খোলার দাবি জানালেও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে।

ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থাগুলো মনে করে যে, আন্তর্জাতিক মহলের নিষ্ক্রিয়তা এবং যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট বিচার না হওয়ার কারণেই এই ধরনের নির্বিচার হামলা ও মৃত্যুর মিছিল দিন দিন দীর্ঘায়িত হচ্ছে। গাজার সাধারণ নাগরিকদের জন্য নিরাপদ কোনো shelter বা আশ্রয়স্থল অবশিষ্ট নেই, কারণ জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুল ও अस्थায়ী শরণার্থী শিবিরগুলোও প্রতিনিয়ত বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এই ভয়াবহ বাস্তবতার মধ্যে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এই সর্বশেষ পরিসংখ্যান মূলত উপত্যকাটির সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার চরম লড়াই এবং বৈশ্বিক ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতাকেই পুনরায় স্পষ্ট করে তোলে।

banner
Link copied!