ঢাকার মার্কিন দূতাবাস আগামী ১ জুন ২০২৬ থেকে সব ধরনের অভিবাসী বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়সীমা কমিয়ে মাত্র দুই কর্মদিবসে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। রোববার এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ এই নতুন নিয়ম চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী ভিসার জন্য অপেক্ষারত হাজার হাজার বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য এক বড় স্বস্তির খবর। এই নতুন প্রশাসনিক সংস্কারের ফলে দীর্ঘদিনের ভিসা বিলম্বের সমস্যা অনেকটাই দূর হবে এবং কনস্যুলার সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস তাদের ব্যাকলগ কমিয়ে সেবাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
নতুন এই নিয়মের আওতায় আবেদনকারীদের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে মার্কিন দূতাবাস। এই প্রক্রিয়ার প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো আবেদনকারীকে তাদের কনস্যুলার ইলেকট্রনিক অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার বা সিইএসি সিস্টেমে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং প্রমাণাদি আগে থেকেই আপলোড করতে হবে। কোনো একটি প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট বাদ পড়লে বা অসম্পূর্ণ থাকলে এই দ্রুতগতির সুবিধা পাওয়া যাবে না। সম্পূর্ণ নথিপত্র আপলোড করার পর আবেদনকারীদের এই পুরো প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অন্তত দুইবার মার্কিন দূতাবাসে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে।
প্রথম পরিদর্শনের সময় মূলত আবেদনকারীর নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে। ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার বা এনভিসি কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে আবেদনকারীকে তাদের সমস্ত মূল নথিপত্র এবং সেগুলোর ফটোকপি নিয়ে দূতাবাসে আসতে হবে। এই প্রথম পরিদর্শনের সময় দূতাবাসের কর্মীরা সমস্ত ডকুমেন্টের সত্যতা যাচাই করবেন, আবেদনকারীর আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করবেন এবং ডিজিটাল ছবি তুলবেন। যদি সমস্ত কাগজপত্র সম্পূর্ণ এবং নির্ভুল পাওয়া যায়, তবে কনস্যুলার বিভাগ থেকে transatlantic বা তাৎক্ষণিকভাবে দ্বিতীয় অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা ইন্টারভিউয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় সম্বলিত চিঠি প্রদান করা হবে।
সাধারণত এই প্রথম রিভিউ বা নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার একই সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এই দ্বিতীয় পরিদর্শনের সময় আবেদনকারীকে একজন মার্কিন কনস্যুলার অফিসারের মুখোমুখি হতে হবে এবং চূড়ান্ত ইন্টারভিউতে অংশ নিতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে আবেদনকারীর মূল পাসপোর্ট ছাড়া অন্য সমস্ত মূল নথিপত্র কালেকশন করে দূতাবাস তাদের নিজেদের হেফাজতে রেখে দেবে, যা ইন্টারভিউয়ের দিন ফেরত দেওয়া হবে। তবে ইন্টারভিউয়ের দিন মূল পাসপোর্টটি সাথে নিয়ে আসা বাধ্যতামূলক এবং সেদিনই ভিসা ইস্যুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর ভিসা সম্বলিত পাসপোর্টটি সংগ্রহের জন্য আবেদনকারীকে ইমেইল বা খুদে বার্তার মাধ্যমে একটি অফিশিয়াল নোটিফিকেশন পাঠানো হবে। সাধারণত এই বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে নিজে এসে অথবা উপযুক্ত নথিপত্রসহ একজন অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে পাসপোর্টটি সংগ্রহ করতে হবে, অন্যথায় ভিসাটি বাতিল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে যাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মেডিকেল পরীক্ষা, জটিল প্রশাসনিক পর্যালোচনা বা ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় নেবে। কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব এড়াতে আবেদনকারীদের পোর্টাল নিয়মিত চেক করা উচিত।
এই প্রশাসনিক গতিশীলতার উদ্যোগটি এমন একটি সময়ে এসেছে যখন চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন ভিসা নীতিতে বেশ কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিগত জানুয়ারি মাস থেকে নির্দিষ্ট কিছু ভিসা ক্যাটাগরির জন্য সিকিউরিটি বন্ড এবং কঠোর পাবলিক চার্জ বা আর্থিক সক্ষমতার নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। সেই কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার মাঝেও ইমিগ্র্যান্ট ভিসার প্রসেসিং সময় দুই দিনে নামিয়ে আনার এই নতুন পদক্ষেপটি একটি বিশাল ইতিবাচক উন্নয়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নতুন ব্যবস্থাটি পারিবারিক পুনর্মিলন এবং দক্ষ পেশাদারদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও সামাজিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
