সোমবার, ০১ জুন, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শত্রুর যেকোনো ভুলের কঠোর জবাব দেবে ইরান, হুঙ্কার সেনাপ্রধানের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৩১, ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

শত্রুর যেকোনো ভুলের কঠোর জবাব দেবে ইরান, হুঙ্কার সেনাপ্রধানের

ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও তেহরান তাদের মূল সামরিক সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখেছে বলে স্বীকার করেছেন খোদ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সেনাবাহিনীর সমন্বয় বিষয়ক উপ-কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি শত্রুপক্ষকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন যে, এবার কোনো ভুল হিসাব কষলে তার জবাব আগের চেয়েও অনেক বেশি বিধ্বংসী ও শক্তিশালী হবে। শনিবার ইরানের সামরিক সদর দফতরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে নতুন মোড় দিয়েছে।

রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস না করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন যে, ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনী শত্রুর যেকোনো বৈরী বা উসকানিমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অটল সংকল্প নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দেশের সামরিক বাহিনীর সব শাখা বিশেষ করে বিমান প্রতিরক্ষা এবং নৌবাহিনী সম্পূর্ণ আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দেশীয় সামরিক সরঞ্জামে সজ্জিত। ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলের মূল ভিত্তি হলো তাদের দূরপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্বয়ংক্রিয় ড্রোনের এক বিশাল নেটওয়ার্ক, যা মাটির গভীরে অবস্থিত সুরক্ষিত বাঙ্কারে সংরক্ষিত রয়েছে। তেহরানের এই অনড় অবস্থান মূলত এটিই নির্দেশ করে যে, দীর্ঘমেয়াদী বৈশ্বিক অবরোধ এবং সাম্প্রতিক বিমান হামলা সত্ত্বেও তাদের সামরিক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সচল রয়েছে।

তেহরানের এই প্রকাশ্য হুঁশিয়ারির সমান্তরালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মহলেও এক ধরনের গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে, কয়েক সপ্তাহব্যাপী আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পরও ইরানের মূল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ঘাঁটিগুলো নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা গোপনে স্বীকার করেছেন যে, হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগনের প্রকাশ্য বিবৃতিতে ইরানের অবশিষ্ট সামরিক শক্তির প্রকৃত মাত্রাকে ইচ্ছাকৃতভাবে আন্তর্জাতিক মহলে কম করে তুলে ধরা হয়ে থাকতে পারে, যা বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মাটির নিচে অবস্থিত এই সুরক্ষিত সামরিক অবকাঠামোগুলোতে সাধারণ বিমান হামলা চালিয়ে ক্ষতিসাধন করা প্রায় অসম্ভব বলে তারা মনে করছেন।

আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী এবং লেবানন ফ্রন্টে চলমান সংঘাতের এই সন্ধিক্ষণে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়টি মার্কিন প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য নীতিকে বড় ধরনের কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ওমান এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান অনানুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা যখন এক নতুন অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে, তখন তেহরানের এই শক্তিশালী অবস্থান তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য ধরে রাখতে হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক কৌশলে পরিবর্তন আনতে হবে, অন্যথায় যেকোনো আকস্মিক ভুল হিসাব এই অঞ্চলে একটি বহুপাক্ষিক ও ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা করতে পারে।

banner
Link copied!