সোমবার, ০১ জুন, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দিল্লিতে ভবন ধসে ৯ জনের মৃত্যু, ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের বিক্ষোভ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৩১, ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম

দিল্লিতে ভবন ধসে ৯ জনের মৃত্যু, ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের বিক্ষোভ

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মেহরৌলি এলাকায় একটি পুরোনো পাঁচতলা আবাসিক ভবন আকস্মিক ধসে পড়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত নয়জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার দুপুরের দিকে ঘটা এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকা জুড়ে এক চরম আতঙ্ক ও মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় উদ্ধারকারী দল এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে যে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বেশ কিছু মানুষ অলৌকিক বেঁচে থাকার আশায় আটকা পড়ে আছেন। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজদের স্বজনদের কান্নায় চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে এবং সেখানে এখনো নিখোঁজদের উদ্ধারে এক বিশাল যৌথ তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ঘনবসতিপূর্ণ মেহরৌলি এলাকার ওই পাঁচতলা পুরোনো ভবনটি কোনো ধরনের আগাম সংকেত ছাড়াই আচমকা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ভবনটি ধসে পড়ার সময় তার একটি বড় অংশ পাশের একটি অস্থায়ী কাঠামোর ওপর গিয়ে আছড়ে পড়ে। দুর্ভাগ্যবশত, সেই পাশের কাঠামোটিতে স্থানীয় মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি নিয়মিত খাবার ঘর বা মেস পরিচালিত হতো। ঘটনার সময় দুপুরের খাবারের জন্য সেখানে বেশ কিছু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন, যার কারণে ভবন ধসের সাথে সাথেই তারা বিশাল কংক্রিটের স্ল্যাব ও ইটের স্তূপের নিচে জ্যান্ত চাপা পড়েন। আশপাশের মানুষ বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ধুলোবালির মেঘের মাঝেই উদ্ধারকাজ শুরু করেন।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই মেহরৌলি থানার পুলিশ ও দমকল বাহিনীর বেশ কয়েকটি ইউনিট দ্রুত মোবাইল টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে উদ্ধারকাজে যুক্ত করা হয় ভারতের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ এবং জেলা বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে। ভারী ক্রেন, গ্যাস কাটার এবং কংক্রিট ভাঙার আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে উদ্ধারকর্মীরা নিখোঁজদের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেন। উদ্ধার হওয়া বেশ কয়েকজন নাগরিককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তবে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়া মরদেহের বিকৃতি এবং নথিপত্রের অভাবের কারণে নিহতদের কাউকেই এখনো সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মাঝেই স্থানীয় বাসিন্দা ও নিখোঁজদের আত্মীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নিখোঁজ স্বজনদের বর্তমান অবস্থা বা জীবিত উদ্ধার হওয়াদের তালিকা জানতে চাইলেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ও সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় দাবি হলো, সরকারি উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর অনেক আগেই পাড়ার সাধারণ তরুণরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকাজে এগিয়ে এসেছিলেন। তারা নিজ দায়িত্বে ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন, অথচ আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে আসা পুলিশ ও দমকল বাহিনী পরবর্তীতে মাত্র দুজনকে উদ্ধার করতে পেরেছে। প্রশাসনের এই ধীরগতির কারণে ক্ষোভ আরও তীব্র রূপ নেয়।

এর পাশাপাশি মেহরৌলি এলাকার সাধারণ মানুষ এই দুর্ঘটনার পেছনে সরাসরি স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষ ও আবাসন মাফিয়াদের যোগসাজশকে দায়ী করেছেন। তাদের দাবি, ধসে পড়া বহুতল ভবনটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ এবং কোনো ধরনের অনুমোদিত নকশা ছাড়াই অবৈধভাবে নির্মাণ করা হচ্ছিল। এর আগেও এই ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণকাজের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু রহস্যজনক কারণে সরকারি কোনো বিভাগ এর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে আজ এই মর্মান্তিক পরিণতি ও ৯ জনের প্রাণহানি দেখতে হতো না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানের জরুরি উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর ভবনটির প্রকৃত মালিকানা, নির্মাণকাজের অফিশিয়াল অনুমোদন এবং প্রশাসনের কোনো স্তরে অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

banner
Link copied!