বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাশিয়ার দুই বিশাল তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ৬, ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

রাশিয়ার দুই বিশাল তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী রাশিয়ার গভীরে দূরপাল্লার একাধিক শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালিয়ে দুটি বড় তেল শোধনাগারে সরাসরি আঘাত হেনেছে। একই সময়ে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক পাল্টা হামলা চালিয়েছে, যার ফলে উভয় পক্ষেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে বিবিসি নিউজ এবং রয়টার্স জানিয়েছে। সংঘাত এখন পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে এবং উভয় দেশই এখন একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর কৌশল তীব্র করেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিশ্চিত করেছেন যে তার দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের স্লাভনেফট ইয়ানোস শোধনাগার এবং বাশকোর্তোস্তান প্রজাতন্ত্রের বাশনেফট নভোয়েল স্থাপনায় সফলভাবে আঘাত হেনেছে। তিনি জানান, মস্কো যেসব তেল রাজস্ব ব্যবহার করে নিজেদের সামরিক ব্যয় মেটায়, তা সীমিত করার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পিত অভিযানগুলো চালানো হয়েছে। ইয়ারোস্লাভল শোধনাগারটি ইউক্রেনীয় সীমান্ত থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অন্যদিকে বাশকোর্তোস্তানের স্থাপনাটি মূল যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ১৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত। এটি ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতার ক্রমবর্ধমান পাল্লার বিষয়টি বিশ্বের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

রাতের এই ভয়াবহ হামলার পর ইয়ারোস্লাভল শহরের আকাশে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়। ওই অঞ্চলের গভর্নর মিখাইল ইভরায়েভ এই ঘটনাকে তার অঞ্চলে হওয়া শত্রুদের ড্রোনের সর্ববৃহৎ হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি দাবি করেন যে স্থানীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৯৩টি ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে ড্রোনের জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে স্থাপনাটিতে বড় আকারের আগুন ধরে যায় এবং তেলের মজুত রাখার বিশাল ট্যাংকগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্লাভনেফট ইয়ানোস হলো রাশিয়ার পাঁচটি বৃহত্তম তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার একটি। এই কারখানাটি বছরে প্রায় ১৫ মিলিয়ন টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে এবং এখান থেকেই বিমান চলাচলের জ্বালানি ও শিল্প তেল উৎপাদন করা হয়।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রাতভর ইয়ারোস্লাভল, ব্রায়ানস্ক, নিঝনি নভগোরোদ এবং কুরস্ক অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ইউক্রেনের ছোড়া রেকর্ডসংখ্যক ৬০৫টি ড্রোন আকাশে আটকে দিয়ে ধ্বংস করেছে। রুশ কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরে এসব ব্যাপক ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে রুশ বাহিনীও ইউক্রেনের ভূখণ্ডের ভেতরে একাধিক প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রাশিয়ার এসব হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ১১ জন নিহত এবং আরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল একটি বেসামরিক যাত্রীবাহী বাস এবং বিভিন্ন সাধারণ আবাসিক এলাকা। পাশাপাশি কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনীয় গম বহনকারী একটি বাণিজ্যিক জাহাজেও রুশ বাহিনী আঘাত হেনেছে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির কৃষিপণ্য রপ্তানির আন্তর্জাতিক পথকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

যা কম স্পষ্ট তা হলো, রাশিয়ার এই বিশাল শোধনাগারগুলোতে ঠিক কী পরিমাণ কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যবস্থায় ফিরতে তাদের কত সময় লাগতে পারে। এই তীব্র আন্তঃসীমান্ত হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটছে যখন যুদ্ধবিরতির সকল কূটনৈতিক আলোচনার পথ অনেকটাই থমকে আছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি প্রক্রিয়া বর্তমানে পুরোপুরি স্থগিত রয়েছে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের কোনো দ্রুত সমাধানের আশা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

banner
Link copied!