শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

হিমালয়ে তুষারধস ট্র্যাজেডি

নেপালে তুষারধসে নিহত ১৫: উদ্ধারকাজ শেষ পর্যায়ে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২, ২০২৬, ১০:২১ পিএম

নেপালে তুষারধসে নিহত ১৫: উদ্ধারকাজ শেষ পর্যায়ে

মধ্য নেপালের হিমালয় অঞ্চলে ৭ হাজার ১২৬ মিটার উচ্চতার হিমলুং পর্বতশৃঙ্গের বেস ক্যাম্পে আঘাত হানা এক শক্তিশালী তুষারধসে অন্তত ১৫ জন পর্বতারোহণ সহায়তাকারী কর্মীর প্রাণহানি ঘটেছে। চীন সীমান্তসংলগ্ন দুর্গম এলাকায় আগামী দিনের পর্বতারোহণ অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে ক্যাম্প তৈরি ও চলাচলের দড়ি বাঁধার সময় স্থানীয় নেপালি শ্রমিকরা এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েন। বরফে চাপা পড়া ক্যাম্প থেকে উদ্ধারকারী দল নতুন করে আরও আটটি মরদেহ উদ্ধারের পর মোট নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি নেপালের অন্যতম ভয়াবহ পর্বতারোহণ ট্র্যাজেডি।

দুর্যোগস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নেপাল ন্যাশনাল মাউন্টেন গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তুল সিং গুরুং জানান, অভিজ্ঞ গাইডদের সমন্বয়ে গঠিত ১১ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে নিরবচ্ছিন্নভাবে তল্লাশি চালায়। তাঁবুগুলো প্রায় চার মিটার বা ১৪ ফুটের বেশি গভীর জমাট বরফের নিচে সমাহিত হয়েছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখনও একজন কর্মী নিখোঁজ থাকলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও চরম শীতের কারণে তার জীবিত থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে, যার ফলে উদ্ধার অভিযান সমাপ্তির পথে।

তুষারধস যখন আঘাত হানে, তখন বিদেশি পর্বতারোহীদের কোনো দল ওই বেস ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে হতাহতের পুরো ঘটনাটি ঘটেছে স্থানীয় সহায়তাকারী কর্মীদের মধ্যেই।

উদ্ধারকর্মীরা কয়েকদিন ধরে তুষার খুঁড়ে মরদেহ বের করেছেন।

গত রবিবার সকালে তুষারধসের পরপরই প্রাথমিক অনুসন্ধানে দুজন পর্বতারোহণ গাইডের মরদেহ শনাক্ত করা হয়। এরপর সোমবার উদ্ধার করা হয় রান্নাকাজে নিয়োজিত দুজন কর্মীর মরদেহ এবং মঙ্গলবার আরও তিনজনের মরদেহ বরফ সরিয়ে উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। বৃহস্পতিবার একযোগে আরও আটজনের মরদেহ খুঁজে পাওয়ার মধ্য দিয়ে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা পনেরোয় পৌঁছায়। এর আগে ২০১৪ সালে এভারেস্টে তুষারধসে ১৬ জনের এবং ২০১৫ সালে শক্তিশালী ভূমিকম্পে এভারেস্টেই ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।

হিমালয়কন্যা হিসেবে পরিচিত এই ভূখণ্ডে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ক্রমাগত বাড়ছে। গত ২৬ আগস্ট দেশটির একটি পার্বত্য হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন এবং পাঁচ সহস্রাধিক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। সেই শোক কাটতে না কাটতেই পর্বতশৃঙ্গের নতুন এই তুষারধস স্থানীয় গাইড ও পর্বতারোহণ শ্রমিকদের পরিবারের মাঝে শোকের ছায়া ফেলেছে। উম্মাহ কণ্ঠ ডট কম ডেস্ক নিশ্চিত করেছে যে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জোরদার করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে।

banner
Link copied!