মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

চীন উপকূলে ধেয়ে আসছে টাইফুন বাভি: সতর্কতা জারি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১১, ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

চীন উপকূলে ধেয়ে আসছে টাইফুন বাভি: সতর্কতা জারি

তাইওয়ান ও জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার পর শক্তিশালী টাইফুন বাভি এখন চীনের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। ঝড়ের সম্ভাব্য আঘাত মোকাবিলায় চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ১৮ লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র টাইফুন বাভি নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার ভোর নাগাদ এটি চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের ওয়েনজৌ শহরের কাছে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে।

রয়টার্স ও সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, টাইফুন বাভি চীনের মূল ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে আসার সময় কিছুটা শক্তি হারালেও এটি এখনও অত্যন্ত বিপজ্জনক। ঝড়ের সাথে থাকা প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্পের কারণে এর প্রভাবে ব্যাপক বর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঝেজিয়াং এবং ফুজিয়ান প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ১৭ হাজারেরও বেশি উদ্ধারকর্মীকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে যাতে কেউ বিপজ্জনক স্থানে প্রবেশ করতে না পারে।

চীনের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহরগুলোতে এর মধ্যেই দৈনন্দিন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং ট্রেন ও ফেরি চলাচল সীমিত বা বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্দরগুলোতে মাছ ধরার নৌকাগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঝড়ের আশঙ্কায় প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পানির মজুত গড়ে তুলেছেন। ঝেজিয়াং প্রদেশের প্রশাসন জানিয়েছে যে, তারা সম্ভাব্য বন্যা ও ভূমিধস মোকাবিলায় সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে। সাংহাইয়ের উপকূলীয় এলাকা থেকেও হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে টাইফুন বাভি তাইওয়ানের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় প্রবল বাতাস ও বৃষ্টিপাত ঘটায়। এতে অনেক এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জেও এই ঝড়ের প্রভাব ছিল প্রবল। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে আসার সময় এটি সুপার টাইফুন হিসেবে শক্তি অর্জন করলেও বর্তমানে তা ক্যাটাগরি এক পর্যায়ের ঝড়ে রূপ নিয়েছে। তবে এর বাতাসের গতিবেগ এখনও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এল নিনো জলবায়ু পরিস্থিতির কারণে এবার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক ঝড়ের প্রকোপ বেড়েছে। চীনের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো সম্প্রতি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় মেসাকের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যেখান থেকে তারা এখনও পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেনি। নতুন করে টাইফুন বাভির আঘাত সেই পুনর্বাসন ও ত্রাণ কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকার এখন পর্যন্ত প্রতিটি প্রাণ বাঁচাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং উপকূলীয় জেলাগুলোর বাসিন্দাদের সার্বক্ষণিক নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

banner
Link copied!