রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩

বেলজিয়ামে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দাবানল, ঝুঁকিতে জার্মানি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ১৬, ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম

বেলজিয়ামে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দাবানল, ঝুঁকিতে জার্মানি

বেলজিয়ামের ইতিহাসে রেকর্ডকৃত সবচেয়ে বড় দাবানল ভয়াবহ রূপ নিয়ে জার্মানি সীমান্তের দিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে আল জাজিরা ও রয়টার্স জানিয়েছে। দেশটির লিজে প্রদেশের হাই ফেন্স প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলে গত শুক্রবার এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় এবং তা ইতোমধ্যে সাতাশ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে। তীব্র গরম ও দীর্ঘস্থায়ী অনাবৃষ্টির কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

ওয়ালোনিয়া প্রদেশের সরকারি মুখপাত্র স্টেফানি এরনউক্স সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে আগুন যাতে কোনোভাবেই জার্মানির সীমানায় প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য দুই শতাধিক জরুরি সেবা কর্মী রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন। বেলজিয়াম ছাড়াও জার্মানি, লুক্সেমবার্গ এবং নেদারল্যান্ডস থেকে আসা দমকল বাহিনী যৌথভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। বাতাসের গতিপথ পরিবর্তনের কারণে ওয়াইমেস ও বুটগেনবাখ পৌরসভা থেকে প্রায় ছয়শ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো বসতি পুড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

সীমান্তের অপর প্রান্তে অবস্থিত জার্মানির মনশাউ শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে দাবানলটি তাদের সীমানা থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। যদিও আগুনের শিখা সরাসরি সীমান্ত অতিক্রম করার আশঙ্কা কম, তবুও অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১১ সালে একই রিজার্ভে চৌদ্দ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুড়ে যাওয়ার ঘটনাটি ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দাবানল, যা বর্তমান ভয়াবহতার কাছে ম্লান হয়ে গেছে।

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার বেলজিয়ামের তাপমাত্রা সাঁত্রিশ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে গেছে। চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ক্রোয়েশিয়া ও গ্রিসের বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ দাবানলের কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ মিলিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লক্ষ হেক্টর বনভূমি ও কৃষিজমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ ধরনের চরম আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

banner
Link copied!