সোমবার, ০১ জুন, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কঙ্গোয় ইবোলার দ্রুত সংক্রমণ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৩১, ২০২৬, ১১:৪১ এএম

কঙ্গোয় ইবোলার দ্রুত সংক্রমণ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ

গণতান্ত্রিক  (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের দ্রুত বিস্তার পরিস্থিতিকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক করে তুলেছে বলে সতর্ক করেছে চিকিৎসাবিষয়ক আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা মেডিসিনস সানস ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ)। প্রাদুর্ভাব ঘোষণার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় এত বিপুলসংখ্যক আক্রান্তের ঘটনা এর আগে কোনো প্রাদুর্ভাবে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির অপারেশন্স deputy ডিরেক্টর ডক্টর অ্যালান গঞ্জালেস। 

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম তদারকি করতে দেশটির সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশ সফরে গেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ডক্টর টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস।বর্তমানে কঙ্গোয় সন্দেহভাজন ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৪৬ জন। প্রতিবেশী উগান্ডাতেও নয়জন নিশ্চিত আক্রান্ত এবং একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এমএসএফ জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ে তাদের দলগুলো যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে, তা মহামারির দ্রুত বিস্তারের তুলনায় অনেক ধীরগতির। শত শত নমুনা এখনো পরীক্ষাগারে পড়ে থাকলেও পরীক্ষার পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও বিস্তারের সঠিক মাত্রা এখনো অজানা রয়ে গেছে।

এবারের প্রাদুর্ভাবটি ইবোলার ‍‍`বুন্দিবুগিও‍‍` (Bundibugyo) স্ট্রেন বা জাত দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে। এই জাতের ভাইরাসের জন্য এখন পর্যন্ত অনুমোদিত কোনো ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি নেই, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর আগে কঙ্গোয় সবচেয়ে সাধারণ ‍‍`জাইর‍‍` স্ট্রেনের জন্য টিকা ব্যবহার করা গেলেও এবার তা সম্ভব হচ্ছে না।

চলমান এই সংকট মোকাবিলায় সীমান্ত ও বিমানবন্দর বন্ধের মতো কড়া বিধিনিষেধের কারণে চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে মারাত্মক বিলম্ব হচ্ছে। ডব্লিউএইচও বারবার সতর্ক করে বলেছে যে কঙ্গোর অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত ইবোলা প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা অনেক সময় উপদ্রুত এলাকায় পৌঁছাতে পারছেন না।

ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ায় পৌঁছে ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস স্থানীয় বাসিন্দাদের এই রোগ প্রতিরোধে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষ সমস্যাগুলো সবচেয়ে ভালো বোঝেন এবং সমাধানও তাদের জানা। একই সঙ্গে তিনি ইবোলায় মৃতদের শেষকৃত্যের সময় মরদেহ স্পর্শ করার প্রথাগত আচার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছেন। এই ধরনের স্পর্শ ভাইরাসের সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।বুনিয়া শহরের বিমানবন্দরে এখন যাত্রীদের জন্য হাত ধোয়ার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্থানীয় টেলিভিশন এবং রেডিওতে ফরাসি ভাষার পাশাপাশি বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় জনসচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। বুনিয়ার বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে এখন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করছে। এর আগে পরীক্ষার জন্য নমুনা দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে রাজধানী কিনশাসায় পাঠাতে হতো, যা মহামারি নিয়ন্ত্রণে বড় ধীরগতির কারণ ছিল এবং এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হতো।

এদিকে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে কঙ্গোফেরত এক ব্যক্তির শরীরে ইবোলার লক্ষণ দেখা দেওয়ায় তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। সাঁইত্রিশ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি সম্প্রতি কঙ্গো থেকে ফিরেছেন এবং তাকে একটি সংক্রামক ব্যাধি ইনস্টিটিউটে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

banner
Link copied!