রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

স্তন ক্যান্সার সচেতনতা

স্তন ক্যান্সার পুনর্বাসনের ছবি সরাচ্ছে অনলাইন অ্যালগরিদম

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম

স্তন ক্যান্সার পুনর্বাসনের ছবি সরাচ্ছে অনলাইন অ্যালগরিদম

যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টলের কাছে হ্যানহ্যামের এক চিকিৎসা ট্যাটুশিল্পী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্তন ক্যান্সারের অস্ত্রোপচার পরবর্তী কাজের ছবি সেন্সরশিপের শিকার হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। লরেন কার্টার নামের এই শিল্পী জানান, অস্ত্রোপচারের পর নারীদের স্বাভাবিক শারীরিক রূপ ফিরিয়ে দিতে তিনি যে বাস্তবসম্মত ত্রিমাত্রিক ট্যাটু তৈরি করেন, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাগুলো তাকে অনুপযুক্ত নগ্নতা হিসেবে ভুল চিহ্নিত করছে। বারবার এমন নিষেধাজ্ঞার কারণে তার বহু বছরের পেশাগত পোর্টফোলিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সেবাগ্রহীতাদের কাছে তথ্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

দশবারের মধ্যে নয়বারই তার পোস্ট সরিয়ে দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মূল নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ক্যান্সারের চিকিৎসা পরবর্তী দাগ এবং এ ধরনের ট্যাটুর ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে নীতিগত বাধা নেই। তবে ছবিগুলো অতিরিক্ত বাস্তবসম্মত হওয়ায় স্বয়ংক্রিয় কৃত্রিম ব্যবস্থা প্রায়ই কালির কারুকাজকে মানবদেহের প্রকৃত চামড়া মনে করে ভুল করে বসে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ভুক্তভোগীদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক কন্টেন্ট সঠিকভাবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া উন্নত করার কাজ চলছে। স্তন ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠা নারীদের পুনর্বাসনে এই শিল্পীদের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও স্বীকার করেছে সংস্থাটি।

কিন্তু আপিল করেও কোনো লাভ হয় না বলে শিল্পীর অভিযোগ।

কার্টারের ভাষ্য অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার পরও কোনো কার্যকর পর্যালোচনা ছাড়াই পোস্ট স্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পুরুষ রোগীদের ক্ষেত্রে একই ধরনের ছবি পোস্ট করা হলে কখনোই সেগুলোকে আপত্তিকর হিসেবে চিহ্নিত বা বাতিল করা হয় না। অথচ এই কাজের লক্ষ্য কোনো প্রদর্শন বা ফ্যাশন নয়, বরং ক্যান্সারের শিকার নারীদের শারীরিক ও মানসিক আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়া। সতর্কতামূলক বার্তা কিংবা বিশেষ চিহ্ন দিয়ে ঢেকে দেওয়ার পরও অ্যালগরিদমের এই বিধিনিষেধ এড়ানো যাচ্ছে না।

চিকিৎসা ট্যাটুর সুফল পাওয়া ব্রিস্টলের বাসিন্দা জেসিকা বাউলার নিজের অভিজ্ঞতায় এই সংকটের গভীরতা ব্যাখ্যা করেছেন। পেশায় নার্স ৩৯ বছর বয়সী বাউলার জানান, ৩২ বছর বয়সে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন বাঁচাতে তিনি উভয় স্তনে জটিল অস্ত্রোপচার করান। পরবর্তীতে এই বিশেষ ট্যাটুর মাধ্যমে তিনি স্বাভাবিক শারীরিক গঠন ফিরে পান, যা তার সুস্থ হয়ে ওঠার পথকে মসৃণ করেছিল। তার মতে, ক্যান্সার যা কেড়ে নিয়েছিল তা ফেরত পাওয়ার মানসিক শক্তি কোনো স্বাভাবিক ভাষায় বোঝানো সম্ভব নয়।

চিকিৎসা সংক্রান্ত এই পুনর্বাসনমূলক কাজকে কোনোভাবেই যৌনতা কিংবা লজ্জার বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি। অনলাইনে এ ধরনের ছবি নিষিদ্ধ করার কারণে অস্ত্রোপচারের পর সুস্থতার বিকল্পগুলো খোঁজার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেক নারী।

banner
Link copied!