বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

হাইতিতে মানবিক বিপর্যয়: রাজপথে হাজারো মানুষ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৩, ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

হাইতিতে মানবিক বিপর্যয়: রাজপথে হাজারো মানুষ

হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের সিটে সোলেইল এলাকায় নতুন করে ছড়িয়ে পড়া গ্যাং সহিংসতার জেরে শত শত মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। মঙ্গলবার রাজপথে নেমে আসা ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা সরকারের কাছে নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। গত সপ্তাহান্ত থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ সংঘর্ষে ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন যে গত কয়েক দিনে তারা অসংখ্য মানুষকে চোখের সামনে প্রাণ হারাতে দেখেছেন। তবে হাইতিয়ান কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত হতাহতের নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইসে তার নিজ বাসভবনে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর থেকেই হাইতির রাজধানীতে সশস্ত্র গ্যাংগুলোর আধিপত্য কয়েকগুণ বেড়েছে। স্থানীয় পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বর্তমান সময়ে রাজধানীর প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা শুধু শহর এলাকাতেই নয় বরং গ্রামীণ এলাকাগুলোতেও তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যেমন লুটপাট, অপহরণ এবং যৌন সহিংসতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। রাজনৈতিক শূন্যতার কারণে দেশটিতে বর্তমানে কোনো কার্যকর সরকার বা প্রেসিডেন্ট নেই যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সহিংসতার আঁচ সরাসরি গিয়ে লেগেছে দেশটির স্বাস্থ্যখাতের ওপর। ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স বা এমএসএফ গত সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে রোববার সিটে সোলেইল এলাকায় প্রচণ্ড সংঘর্ষের কারণে তারা তাদের পরিচালিত হাসপাতালটি খালি করতে বাধ্য হয়েছে। ওই এলাকার অন্য একটি প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র সেন্টার হসপিটালিয়ার ডি ফন্টেইন মঙ্গলবার তাদের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা ১১ জন নবজাতকসহ সব রোগীকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়েছে। হাসপাতালের ভেতর পর্যন্ত গোলাগুলির শব্দ পৌঁছানোয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

এই অস্থিরতা এমন এক সময়ে বাড়ছে যখন জাতিসংঘ সমর্থিত একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মিশন দেশটিতে মোতায়েন হতে শুরু করেছে। গত এপ্রিল মাসে সহিংসতা দমনে সহায়তার জন্য এই বাহিনীর প্রথম দল সেখানে পৌঁছায়। এর আগে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একটি বিশাল সদস্যের নিরাপত্তা মিশনের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছিল। তবে এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ বাহিনী সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। জানা গেছে যে চাদের একটি সেনাদল এই মিশনে অংশ নিতে ইতিমধ্যে হাইতিতে অবস্থান করছে।

গ্যাং যুদ্ধের কারণে হাইতির সাধারণ মানুষের জীবন আজ ছিন্নভিন্ন। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন বা আইওএম-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশটিতে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ ইতিমধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় দুই লাখ মানুষ বর্তমানে রাজধানীর ঘিঞ্জি এবং জরাজীর্ণ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অমানবিক পরিবেশে দিন কাটাচ্ছে। পর্যাপ্ত খাবার ও সুপেয় পানির অভাবে ওই এলাকাগুলোতে মহামারি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। বাসিন্দারা বলছেন আন্তর্জাতিক বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ ছাড়া এই নরক থেকে তাদের মুক্তির আর কোনো পথ খোলা নেই।

banner
Link copied!