রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ষাটের কোঠায় যৌবন ধরে রাখার রহস্য: দম্পতির নতুন জীবনধারা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৪, ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম

ষাটের কোঠায় যৌবন ধরে রাখার রহস্য: দম্পতির নতুন জীবনধারা

দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে স্থবিরতা আসাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু ষাটের কোঠায় পৌঁছেও সেই স্থবিরতা ভেঙে সম্পর্কে নতুন সতেজতা আনা সম্ভব। ম্যারি-লুইস পামফ্রে এবং তার স্বামী ম্যাথিউর ২৬ বছরের বিবাহিত জীবনের গল্পটি যেন ঠিক তেমনই একটি অনুপ্রেরণা। তাদের এই দীর্ঘ সম্পর্কের পথে অনেক চড়াই-উতরাই ছিল, কিন্তু জীবনধারা ও স্টাইলে সামান্য কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা নিজেদের সম্পর্কের আবেদনকে নতুন করে খুঁজে পেয়েছেন।এটি শুধু সৌন্দর্য নয়, এটি সম্পর্কের গভীরতা।

জীবন যখন মাঝপথে পৌঁছায়, তখন অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে এক ধরনের সংকটে পড়ে। ম্যাথিউর ক্ষেত্রে সেটি ছিল কর্মজীবনের অনিশ্চয়তা। ষাটের কাছাকাছি বয়সে চাকরি হারানোর পর তিনি অনেকটা নিজের ভেতরের তেজ হারিয়ে ফেলেছিলেন। অন্যদিকে ম্যারি-লুইস তখন নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাচ্ছিলেন। নিজের স্টাইল ও সৌন্দর্যচর্চায় মনোযোগী হয়ে ওঠার মাধ্যমে তিনি এক ধরণের আত্মবিশ্বাস অর্জন করেন। এই ভিন্ন দুই অভিজ্ঞতার টানাপোড়েনেই তাদের সম্পর্কের সমীকরণ বদলে যেতে থাকে।

মানুষের বাহ্যিক রূপ এবং জীবনবোধ অনেক সময় একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। ম্যাথিউ উপলব্ধি করেছিলেন যে, নিজের প্রতি যত্নবান হওয়াটা কেবল বিলাসিতা নয়, বরং তা নিজের আত্মসম্মান পুনরুদ্ধারের একটি মাধ্যম। তিনি তার পুরনো চশমা বদলে এভিয়েটর সানগ্লাস ব্যবহার শুরু করেন, যা তাকে নতুন এক আভিজাত্য এনে দেয়। একইভাবে, তার গলার চারপাশের আলগা চামড়া বা তথাকথিত ‘টার্কি নেক’ নিয়ে নিজের অস্বস্তি কাটাতে তিনি কিছু সচেতন পদক্ষেপ নেন। এগুলো ছিল ছোট ছোট পরিবর্তন, যা তার আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ম্যারি-লুিসের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনগুলো ছিল লক্ষ্য করার মতো। তিনি নিজের আরামদায়ক লোফারের বদলে বেছে নিয়েছেন মকাসিন, যা তার পায়ের গড়নের সাথে বেশি মানানসই। ক্যাপ্রি প্যান্ট বা পেডাল পুশার স্টাইলটি তিনি ফিরিয়ে এনেছেন তার প্রতিদিনের সাজে। এটি কেবল একটি ফ্যাশন ট্রেন্ড নয়, বরং এটি তার কাছে আত্মবিশ্বাসের একটি প্রতিফলন। এছাড়া দাঁতের গঠন নিয়ে দীর্ঘদিনের হীনম্মন্যতা দূর করতে তিনি ভিনিয়ারের সাহায্য নেন। এই ছোটখাটো পরিবর্তনগুলো তাকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাসতে শিখিয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলেছে তার দাম্পত্য জীবনে।

দাম্পত্যে নতুনত্ব আনার ক্ষেত্রে স্টাইল বা পোশাকের ভূমিকা উপেক্ষা করার মতো নয়। পোশাক বা সাজসজ্জার পরিবর্তন কেবল বাহ্যিক নয়, বরং এটি অনেক সময় মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। ম্যাথিউর একটি অদ্ভুত রঙের শার্টের পরিবর্তে মার্জিত স্যুট বেছে নেওয়া বা নিজের দাড়ি ছেঁটে গোঁফের স্টাইল করা—এগুলো কেবল সাজসজ্জা নয়, বরং নিজেকে নতুন করে উপস্থাপনের এক উপায়। ম্যারি-লুইস এবং ম্যাথিউর অভিজ্ঞতায় এটি স্পষ্ট যে, সঙ্গী যখন নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপন করেন, তা অন্য সঙ্গীর কাছে প্রশংসার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা সম্পর্ককে করে তোলে প্রাণবন্ত।

তবে মনে রাখা প্রয়োজন, বাহ্যিক পরিবর্তনের পাশাপাশি মনের সতেজতা ও একে অপরের প্রতি যত্নবান হওয়াটাই আসল। সুর্যের আলো থেকে ত্বক রক্ষায় সচেতন হওয়া কিংবা নিয়মিত স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করা—সবই সম্পর্কের সুস্থতার ইঙ্গিত দেয়। ষাটের কোঠায় এসে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং এটিই সঠিক সময় নিজের পছন্দগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার এবং সঙ্গীর সাথে সেই ভালো লাগাগুলোকে ভাগ করে নেওয়ার।

দীর্ঘ দাম্পত্যে ভালোবাসা টিকে থাকে বিশ্বাসের ওপর, কিন্তু ছোট ছোট ভালো লাগার মুহূর্তগুলো সেই বিশ্বাসকে আরও মজবুত করে। ম্যারি-লুইস ও ম্যাথিউ প্রমাণ করেছেন যে, বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। নিজেকে ও সঙ্গীকে নতুন রূপে দেখার চেষ্টা করলে সম্পর্কের একঘেয়েমি কাটিয়ে ওঠা সত্যিই সম্ভব।

banner
Link copied!