সোমবার, ০১ জুন, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আবুধাবিতে হিজাব পরা ছবি দিয়ে তোপের মুখে বলিউড অভিনেত্রী

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৩১, ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম

আবুধাবিতে হিজাব পরা ছবি দিয়ে তোপের মুখে বলিউড অভিনেত্রী

টেলিভিশন ও রূপালী পর্দার জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী অঙ্কিতা লোখান্ডে তাঁর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে নেটদুনিয়ায় এক তীব্র সামাজিক ও ধর্মীয় বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছেন। স্বামী ভিকি জৈনের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ছুটি কাটানোর বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করার পর থেকেই একশ্রেণির কট্টরপন্থী নেটিজেনের চরম ক্ষোভ ও কটাক্ষের শিকার হতে হচ্ছে এই অভিনেত্রীকে। বিশেষ করে একটি ছবিতে তাঁকে ঐতিহ্যবাহী হিজাব পরিহিত অবস্থায় দেখা যাওয়ার পর থেকে সাইবার বুলিং ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ভারতীয় বিভিন্ন বিনোদন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে অঙ্কিতা লোখান্ডে তাঁর অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আবুধাবি ভ্রমণের একগুচ্ছ রোমান্টিক ও পারিবারিক মুহূর্তের ছবি ভক্তদের উদ্দেশ্যে শেয়ার করেন। মরুভূমির মনোরম পরিবেশ এবং আধুনিক স্থাপত্যের পটভূমিতে তোলা এই ছবিগুলোর কয়েকটিতে অঙ্কিতার মাথায় ও শরীরে হিজাবের মতো শাল জড়ানো ছিল। এই সাধারণ পোশাকটিই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি বড় অংশের ব্যবহারকারীর জন্য আপত্তির মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ছবিগুলো প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কমেন্ট বক্সে উগ্র মন্তব্য এবং নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার বন্যা বয়ে যায়। কট্টরপন্থী নেটিজেনদের একাংশ অঙ্কিতাকে লক্ষ্য করে সরাসরি তাঁর ধর্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।

ইনস্টাগ্রামের মন্তব্য বিভাগে উঁকি দিলে দেখা যায় যে অনেকেই সংকীর্ণ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই ছবিটিকে বিশ্লেষণ করছেন। একজন ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন যে হিন্দু ঘরের সন্তান হয়েও কেন তিনি হিজাব পরেছেন তা তাঁর বোধগম্য নয়। অন্য একজন মন্তব্যকারী আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন যে অঙ্কিতা নিজের ধর্ম পরিবর্তন করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন কি না। এই ক্ষোভ ও সামাজিক তোপ এতটাই চরম পর্যায়ে পৌঁছায় যে কিছু সংঘবদ্ধ অনলাইন গ্রুপ একযোগে এই অভিনেত্রীকে সামাজিক মাধ্যমে আনফলো বা বয়কট করার ডাক দেয়। সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত পোশাকের স্বাধীনতাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে এমন উগ্র আচরণ ভারতের বিনোদন জগতে নতুন কোনো ঘটনা নয়।

তীব্র সমালোচনা এবং সাইবার আক্রমণের মুখেও অঙ্কিতা লোখান্ডে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা বিবৃতি দেননি। তিনি এই পুরো বিষয়টি নিয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছেন। তবে কট্টরপন্থীদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত তাণ্ডবের বিপরীতে বহু সাধারণ নেটিজেন এবং সহনশীল ভক্ত অঙ্কিতার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। অনেক যুক্তিবাদী ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের বা যেকোনো মুসলিম প্রধান দেশের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে প্রবেশের সময় সেখানকার স্থানীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মাথা ঢেকে রাখা একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও মার্জিত শিষ্টাচার। পর্যটকরা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে বিশ্বজুড়েই এই ধরনের সৌজন্যতা বজায় রেখে চলেন।

মনস্তত্ত্ববিদ এবং সমাজ গবেষকদের মতে, বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো এক ধরনের চরম মেরুকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যেখানে সেলিব্রিটিদের প্রতিটি সাধারণ কদম বা পোশাকের চয়েসকে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক চশমায় বিচার করা হয়। অঙ্কিতা লোখান্ডে এর আগেও বিভিন্ন রিয়্যালিটি শো এবং ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্তের কারণে ট্রোলের শিকার হয়েছেন। তবে এবারের হিজাব কেন্দ্রিক বিতর্কটি দেখায় যে কীভাবে ইন্টারনেটের একটি বড় অংশ মানুষের ব্যক্তিগত ভ্রমণ এবং পোশাকের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করতে দ্বিধা করে না। এই অনাকাঙ্ক্ষিত কাদা ছোঁড়াছুড়ির মধ্যেও অঙ্কিতার সুস্থ ও উদার ভক্তরা মনে করেন যে সংস্কৃতির পারস্পরিক আদান-প্রদান এবং সম্মান প্রদর্শনই একটি সুস্থ সমাজের লক্ষণ, যা কোনো সস্তা ট্রোলিং দিয়ে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

banner
Link copied!