বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল-গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রায় ৩০ দিন পর এই নৌপথটি নিয়ে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া এক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।জ্বালানি সংকট নিরসনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সম্ভাব্য চুক্তি অনুযায়ী, ইরান ৩০ দিনের মধ্যে প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের কাজ শুরু করবে, যার ফলে সব দেশের জাহাজ নিরাপদ চলাচলের সুযোগ পাবে। এছাড়া তেহরান ট্রানজিট ফি বা টোল আদায়ের বিষয়টিও বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। গত এপ্রিলে সম্মত হওয়া যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়িয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে উভয় দেশের।নৌপথটি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামে প্রভাব পড়েছে।
বিশ্বের মোট তেল-গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই পথ কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল। টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি চললেও, এই নৌপথ এখনো স্বাভাবিক হয়নি, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।নতুন করে হামলা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।
যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও সম্প্রতি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন বাহিনী নতুন করে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও মাইন পেতে রাখা নৌযান লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্যস্থল ছিল বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসের নিকটবর্তী এলাকা, যেখানে ইরানের একটি নৌঘাঁটি অবস্থিত।যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, এসব হামলা ছিল আত্মরক্ষামূলক।
সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইরান অবশ্য এই সর্বশেষ হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। নতুন এই হামলার ফলে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে কূটনীতিকদের মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে।নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ।
নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, ইরানি কর্মকর্তারা হামলার শব্দের বিষয়টি তদন্ত করছেন। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আলোচনা একদিকে ইতিবাচক মনে হলেও, হামলার ঘটনাগুলো দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থার অভাবকে আবারও সামনে এনেছে। আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে এখন এই আলোচনার সফল পরিণতিই কাম্য।
সবশেষে বলা যায়, হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক হওয়া কেবল জ্বালানি সংকটের সমাধানের পথই প্রশস্ত করবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতার একটি বড় পরীক্ষা হবে। আলোচনা ও সংঘাতের এই দোলাচলের মাঝে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।
