ইরানের রাজধানী তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুনরায় সচল হয়েছে। ইসরায়েলের সাথে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। ইমাম খোমেনি বিমানবন্দর কোম্পানির অপারেশন বিষয়ক উপপ্রধান জানিয়েছেন যে, বিমানবন্দরটিতে ফ্লাইট চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে এবং সৌদি আরব থেকে হজযাত্রী বহনকারী ফ্লাইটগুলো অবতরণ করতে শুরু করেছে। এএফপি ও ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে ইসরায়েলের সাথে ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ের ঘটনায় নিরাপত্তা বিবেচনায় তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের বাণিজ্যিক ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কায় আকাশসীমা বন্ধ রাখা হয়। তবে বর্তমানে ফ্লাইট চলাচল শুরুর মাধ্যমে ইরান একটি বার্তা দিতে চেয়েছে যে তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দিকে মনোনিবেশ করছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফ্লাইটগুলো সময়সূচি মেনে চলবে।
তবে তেহরানের এই পরিস্থিতির বিপরীতে ইসরায়েলের আকাশসীমার চিত্র ভিন্ন। ইরানি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ইরান ও তাদের মিত্ররা পাল্টা আক্রমণ চালায়। এর ফলে ইসরায়েলের রাজধানী জেরুজালেমসহ মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় জরুরি সতর্কবার্তা বা সাইরেন বাজানো হচ্ছে। উদ্ভূত নিরাপত্তার আশঙ্কায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দেশটির আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে। ইয়েমেন থেকেও ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, জেরুজালেম এবং গুশ দানসহ মধ্য ইসরায়েলের প্রায় প্রতিটি প্রান্তে সতর্কবার্তা পৌঁছেছে। নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একদিকে তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুনরায় চালু হওয়া এবং অন্যদিকে ইসরায়েলের আকাশসীমা বন্ধ হওয়া অঞ্চলটির অস্থিতিশীল পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। ইরান ও ইসরায়েলের এই পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। ইরান ফ্লাইট চলাচল শুরু করলেও, পরবর্তী পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ কাটছে না।
