আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে বলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ শনিবার নিশ্চিত করেছেন, পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে। কিউরেটেড কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসলামাবাদ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন যে দুই দেশের মধ্যকার এই সম্ভাব্য চুক্তিটি প্রাথমিকভাবে একটি ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে যার প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি প্রস্তুতি পাকিস্তান সরকার ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে। এই ঐতিহাসিক কূটনৈতিক অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও স্থায়ী শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান জোরালো আশা প্রকাশ করেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে দুই পক্ষই চুক্তির আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার পরপরই আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অস্থিরতা হ্রাসের লক্ষ্যে এই আলোচনা চলাকালীন অবিরত প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার জন্য তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক সংকট নিরসনে এই অঞ্চলে অংশীদার দেশগুলোর অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের এই নতুন সমঝোতা চুক্তিটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত এবং কাছাকাছি রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ইতিবাচক বক্তব্যটি নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে শান্তি চুক্তির বিষয়ে একটি অত্যন্ত অনুকূল এবং ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশ্ববাজার ইতিমধ্যে এই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেছে এবং বিশেষ করে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে এর বড় ধরনের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
যা কম স্পষ্ট তা হলো এই ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার পর দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং সামরিক নীতিনির্ধারকেরা এই চুক্তির শর্তগুলো কতটা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করবেন কারণ পূর্বেও বহু আন্তর্জাতিক চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এমন নানা জটিলতা দেখা দিয়েছিল। তবে এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের অবসান ঘটবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে আশা করছেন বৈশ্বিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উম্মাহ কণ্ঠ এই অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং ঐতিহাসিক ভূ-রাজনৈতিক চুক্তির সার্বিক পরিস্থিতি এবং পরবর্তী অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এই আকস্মিক শান্তি আলোচনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে কারণ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দীর্ঘকাল ধরে এই দুই দেশের বৈরি সম্পর্কের কারণে অস্থির ছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে যে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল তা এই চুক্তির মাধ্যমে অনেকাংশে প্রশমিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা সফল হলে তা দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনেও ইসলামাবাদের প্রভাব অনেক বাড়িয়ে দেবে।
