মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে কোনো ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে না বলে শনিবার তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আল জাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সি নিশ্চিত করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দাবি পুরোপুরি নাকচ করে এই তথ্য প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে দুই দেশের মধ্যকার বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারকটি আগামীকাল রোববার কোনোভাবেই স্বাক্ষরিত হবে না। তবে তিনি আগামী দিনগুলোতে এই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। এই আকস্মিক বিবৃতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকট নিরসনের প্রক্রিয়ায় একটি নতুন কূটনৈতিক নাটকীয়তার তৈরি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত সমঝোতা স্মারকটির অগ্রগতি উল্লেখ করে জানান যে এই স্মারকলিপিটি নিয়ে বর্তমানে উভয় পক্ষ নিবিড়ভাবে কাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক সংঘাতের চিরতরে অবসান ঘটানো এবং বর্তমান ধাপে পারমাণবিক বিষয় নিয়ে কোনো ধরণের আলোচনা হচ্ছে না। তেহরানের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে যে অপর পক্ষের অস্থিতিশীল এবং অননুমেয় আচরণের কারণে এই প্রক্রিয়া সংক্রান্ত যেকোনো মন্তব্যের ব্যাপারে সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। ইরান সরকার এই চুক্তির সঠিক এবং সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক মহলকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছিলেন যে আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই এই ঐতিহাসিক চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে এই চুক্তিটি প্রাথমিকভাবে একটি ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর㶪টিরিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে যার সব ধরণের কারিগরি প্রস্তুতি পাকিস্তান সরকার ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি সম্পন্ন হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও স্থায়ী শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন। ইরানের নতুন এই অস্বীকৃতির পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই আগাম আশাবাদ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
যা কম স্পষ্ট তা হলো ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে কি না কারণ মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারকদের অনেকেই এই সমঝোতার তীব্র বিরোধিতা করছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এর আগে চুক্তিটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কাছাকাছি রয়েছে বলে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও রোববারের স্বাক্ষর বাতিল হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি কিছুটা দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরণের পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। উম্মাহ কণ্ঠ এই অত্যন্ত সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক শান্তি আলোচনার পরবর্তী প্রতিটি অগ্রগতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
