শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইরানকে ৩০০ কোটি ডলার দেওয়ার দাবি অসত্য বলল আমিরাত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১৩, ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

ইরানকে ৩০০ কোটি ডলার দেওয়ার দাবি অসত্য বলল আমিরাত

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা না চালানোর শর্তে ইরানকে বড় অংকের অর্থ প্রদানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো সরাসরি নাকচ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার, রয়টার্স ও আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে। শনিবার জুনের তেরো তারিখে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে পরিষ্কার করা হয়েছে যে ইরানকে অর্থ দেওয়ার বা দেশটির কোনো জব্দকৃত তহবিল মুক্ত করার খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আবুধাবির পক্ষ থেকে বৈশ্বিক গণমাধ্যমগুলোকে যেকোনো সংবেদনশীল সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার এবং মনগড়া তথ্য পরিহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স দুটি আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে পারস্য উপসাগরে নিরাপত্তা বজায় রাখতে আরব আমিরাত মোট এক হাজার কোটি বা দশ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ইরানকে দিতে সম্মত হয়েছে। এমনকি সেই প্রতিশ্রুত তহবিল থেকে ইতিমধ্যে ৩০০ কোটি বা তিন বিলিয়ন ডলার তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আমিরাতের নিজস্ব রাষ্ট্রীয় তহবিল নাকি বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের নিজস্ব সম্পদ, সে বিষয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে বহু বছর ধরে ইরান সংশ্লিষ্ট বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক আর্থিক নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের কঠোর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব তহবিলের একটি বড় অংশ বর্তমানে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ অবস্থায় রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার নিয়মানুযায়ী কোনো বিদেশি ব্যাংক যদি নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত ইরানি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে কোনো ধরণের লেনদেন সম্পন্ন করে তবে সেই ব্যাংক মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে পড়ার চরম ঝুঁকিতে থাকে। এই আইনি জটিলতার কারণেই দুই দেশের মধ্যকার ব্যাংকিং লেনদেন দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত রয়েছে।

গত এপ্রিল মাসের এগারো তারিখে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাতার এবং অন্যান্য দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের কিছু সম্পদ মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। তবে একজন মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দ্রুতই সেই ইরানি দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে এটিকে অপপ্রচার হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইরানি সূত্রটি জানিয়েছিল যে এসব সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ এবং যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান আঞ্চলিক আলোচনায় এটি অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যা কম স্পষ্ট তা হলো মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরণের প্রচারণামূলক সংবাদ ছড়ানোর পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো পক্ষের স্বার্থ জড়িত রয়েছে কি না। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনরায় জোর দিয়ে জানিয়েছে যে তাদের পররাষ্ট্রনীতি সবসময় পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেয়। আবুধাবি প্রশাসন দেশের সাধারণ জনগণকে যেকোনো ধরণের মনগড়া আন্তর্জাতিক গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি সূত্রের যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে। উম্মাহ কণ্ঠ এই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দুই দেশের কূটনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

banner
Link copied!