শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

মার্কিন নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ডোনাল্ড ট্রাম্পের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম

মার্কিন নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ডোনাল্ড ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রাতে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচনে চীনের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বলে রয়টার্স ও বিবিসি নিউজ নিশ্চিত করেছে. দেশটির আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র তিন মাস আগে দেওয়া এই আধা ঘণ্টার ভাষণে তিনি দাবি করেন যে বেইজিং সে সময় জো বাইডেনের পক্ষে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল. এই দাবির পক্ষে নিজের প্রশাসনের ডিক্লাসিফাইড বা অবমুক্ত করা শত শত গোয়েন্দা ফাইল প্রকাশের কথাও ঘোষণা করেন তিনি. যদিও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে চীনের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের প্রমাণ পায়নি বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিল.

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই ভাষণের সময় কয়েক শত পৃষ্ঠার গোয়েন্দা নথিপত্র প্রকাশ করা হয় যার অনেক অংশই ছিল কালো কালিতে ঢাকা. ট্রাম্প তার শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই বক্তব্য প্রদান করলেও উপস্থিত সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়নি. তিনি অভিযোগ করেন যে চীন অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ২২ কোটি ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত ফাইল সংগ্রহ করেছে. ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী দেশের ১৮টি অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের এই সংবেদনশীল তথ্য চীন হ্যাক করেছে অথবা চুরি করেছে. তবে এই চুরি করা তথ্য দিয়ে চীন আসলেই ভোটিং ব্যবস্থা পরিবর্তন করেছে বা নির্বাচনের ফলাফল বদলে দিয়েছে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তিনি হাজির করতে পারেননি.

ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক ভাষণের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে. চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক বিবৃতিতে বলেন যে এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অনেক আগেই এগুলো ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে. অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে ভোটারদের মনে সংশয় তৈরির চেষ্টার অভিযোগ এনেছে. সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন যে আমেরিকায় ভোটাররাই তাদের নেতা নির্বাচন করেন এবং ডেমোক্র্যাটরা প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীন ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে লড়াই চালিয়ে যাবে.

মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল এর আগে তাদের একটি মূল্যায়নে উচ্চ আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছিল যে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীন কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেনি. সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে বেইজিং কোনো পক্ষের জয়-পরাজয়কে তাদের জন্য এতটা সুবিধাজনক মনে করেনি যার জন্য তারা আন্তর্জাতিক মহলে ধরা পড়ার ঝুঁকি নেবে. ওয়াশিংটন পোস্ট এবং ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপ প্রকাশের পরপরই ট্রাম্প এই ভাষণ দিলেন যেখানে দেখা যাচ্ছে যে ইরানে চলমান যুদ্ধ এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে তার জনপ্রিয়তার হার ৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে. দেশের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনগুলো বিদেশি শত্রুদের সাইবার আক্রমণের মুখে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলেও তিনি পুনরায় দাবি করেন.

ভাষণের শেষ অংশে ডোনাল্ড ট্রাম্প সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট নামের একটি কঠোর নির্বাচন আইন পাস করার জন্য কংগ্রেসের প্রতি জোর আহ্বান জানান. এই আইনের মাধ্যমে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা সীমিত করা, ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করা এবং ভোটদানের সময় ছবিসহ পরিচয়পত্র প্রদর্শন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে. নির্বাচনী কর্মকর্তাদের একাংশ ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে পুরনো ও প্রমাণিত সত্যবর্জিত ষড়যন্ত্র তত্ত্বের পুনরাবৃত্তি বলে আখ্যা দিয়েছেন. তারা মনে করেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী অবকাঠামো অত্যন্ত নিরাপদ এবং এতে বড় ধরনের জালিয়াতি করা অসম্ভব.

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেশের ভোটার তালিকা থেকে অ-নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেন. তার দাবি অনুযায়ী প্রায় ২ লক্ষ ৭৮ হাজার অ-নাগরিক ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত রয়েছেন বলে তাদের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে. যা কম স্পষ্ট তা হলো, এই ভোটারদের মধ্যে কতজন আসলেই ভোট দিয়েছেন বা তারা কোনো নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পেরেছেন ki না. ট্রাম্পের বিরোধী পক্ষ মনে করে যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্যই তিনি এই ধরণের বিতর্কিত কৌশল অবলম্বন করছেন.

banner
Link copied!