শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় এন্দোর

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১২, ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম

ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় এন্দোর

ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে জাপানের নির্ভরযোগ্য অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার রয়টার্স এবং বিবিসি নিউজ নিশ্চিত করেছে। পায়ের মারাত্মক চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে না পারায় ৩৩ বছর বয়সী এই লিভারপুল মিডফিল্ডার হুট করেই বুট জোড়া তুলে রাখার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রীড়া বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছেন। মেক্সিকোর প্রি বিশ্বকাপ ক্যাম্পে দীর্ঘ রিহ্যাবিলিটেশন শেষে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে অংশ নিতে না পারায় এই ঘোষণা দেন তিনি। জাপান স্কোয়াডে তার বদলি হিসেবে ডাক পেয়েছেন বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখের ফুটবলার শুতো মাচিনো এবং তার অনুপস্থিতিতে বিশ্বকাপে ব্লু সামুরাইদের নেতৃত্ব দেবেন ডিফেন্ডার কো ইতাকুরা।

বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের হয়ে মাঠ মাতাতে না পারার তীব্র হতাশা বুকে চেপে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন ওয়াতারু এন্দো। তিনি লিখেছেন যে ইনজুরি পাওয়ার পর থেকে এটি কাটিয়ে উঠতে তিনি তার সাধ্যের সবকিছুই করেছেন এবং এই কারণে নিজের কাছে তার কোনো আফসোস নেই। তবে এই বিশ্বকাপে খেলতে না পারার গভীর হতাশা তার মনে সারাজীবন থাকবে। কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে এই দলটিকে চমৎকারভাবে নেতৃত্ব দিতে পারা এবং বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখার মতো একটি স্তরে দলটিকে নিয়ে যেতে পারার জন্য তিনি অত্যন্ত গর্ববোধ করেন। তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রেখে তিনি জাপানের ফুটবল ভক্তদের উদ্দেশ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং দলকে সমর্থন করার আহ্বান জানান।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে লিভারপুলের হয়ে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার সময় পায়ে মারাত্মক চোট পেয়েছিলেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ওয়াতারু এন্দো যার ফলে তার ক্লাব মরসুম ওখানেই শেষ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে গত ৩১ মে টোকিওতে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে জাপানের জার্সিতে মাঠে ফিরেছিলেন তিনি যেখানে তার দল ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে। তবে প্রথমার্ধের পরেই পায়ে আবার তীব্র অস্বস্তি অনুভব করায় তিনি মেক্সিকোর ক্যাম্পে পূর্ণাঙ্গ কোনো অনুশীলনে অংশ পারেননি। গত সোমবার জাপান দল যখন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলের মূল বেজে পৌঁছায় তখন তিনি অনুশীলনে নামলেও বিশ্বকাপের উচ্চ তীব্রতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় ফিটনেস ফিরে পাননি। ফলে দেশের হয়ে ৭৩ ম্যাচে ৪ গোল করা এই কিংবদন্তি মিডফিল্ডারকে জাতীয় দল থেকে অবসরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তিনি ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপে জাপানের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন এবং কাতারে জার্মানি ও স্পেনকে বধ করার ঐতিহাসিক ম্যাচগুলোর অন্যতম প্রধান নায়ক ছিলেন।

যা কম স্পষ্ট তা হলো প্রধান তারকাদের এমন একের পর এক ইনজুরির পর বিশ্বকাপে জাপানের কৌশলগত পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হবে। ওয়াতারু এন্দোর এই আকস্মিক বিদায় জাপানের বিশ্বকাপ মিশনকে এক মস্ত বড় শঙ্কার মুখে ফেলে দিয়েছে কারণ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই ইনজুরি জর্জরিত দল নিয়ে তীব্র বিপাকে আছেন প্রধান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু। বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণার মাত্র এক সপ্তাহ আগে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ে দল থেকে ছিটকে যান ব্রাইটনের তারকা উইঙ্গার কাওরু মিতোমা। তারও আগে গত ডিসেম্বর মাসে বাঁ পায়ের হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ায় বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যায় মনাকোর ফরোয়ার্ড তাকুমি মিনামিনোর।

নেদারল্যান্ডস, তিউনিসিয়া এবং সুইডেনের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বে মাঠে নামার আগে প্রধান তিন তারকাকে হারানো জাপানের জন্য এক মস্ত বড় মানসিক ধাক্কা। নতুন অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া কো ইতাকুরা অবশ্য দলের হাল ধরেছেন এবং সর্বোচ্চ দায়িত্ব ও দায়িত্বের সাথে এই কঠিন দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে ওয়াতারু এন্দো তাদের দলের একজন সত্যিকারের নেতা ছিলেন এবং তার এই আকস্মিক বিদায় পুরো দলকে ব্যথিত করছে। জাপানের সাধারণ ফুটবল ভক্তরা এখন নতুন অধিনায়কের অধীনে তরুণ দলটির ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

banner
Link copied!