বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগের পর জর্ডানকে বকেয়া অর্থ দিল ফিফা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ৬, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম

ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগের পর জর্ডানকে বকেয়া অর্থ দিল ফিফা

জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রিন্স আলী বিন হুসেইন ফুটবলের বিশ্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইলের গুরুতর অভিযোগ তোলার মাত্র দুদিনের মাথায় আকস্মিকভাবে বকেয়া প্রাইজমানি পরিশোধ করেছে ফিফা। আল জাজিরা এবং রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আরব কাপে অংশ নেওয়ার জন্য জর্ডানের জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও কারিগরি স্টাফদের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওনা ছিল, যা দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছিল।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি বিশ্বকাপের একটি নির্দিষ্ট অংশের মালিকানা বিক্রি করার বিতর্কিত প্রস্তাব থেকে শেষ পর্যন্ত সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এই প্রস্তাবের কারণে তিনি ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফাসহ বিভিন্ন মহলের প্রবল চাপের মুখে রয়েছেন। এই প্রশাসনিক টানাপোড়েনের মধ্যেই প্রিন্স আলী প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন যে, ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তারা এর আগে জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বেশ কিছু আর্থিক ও কাঠামোগত সমস্যা সমাধানে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে এর বিনিময়ে ফিফা সভাপতির প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন আদায়ের একটি অলিখিত ও অন্যায্য শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। গত ডিসেম্বরে কাতারে অনুষ্ঠিত আরব কাপের ফাইনালে ওঠার প্রাইজমানি আটকে থাকার বিষয়টি ছিল জর্ডানের ফুটবলের অন্যতম প্রধান একটি সমস্যা।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক কড়া বার্তায় প্রিন্স আলী নিশ্চিত করেন যে, ফিফা প্রশাসন হঠাৎ করেই বৃহস্পতিবার সকালে তাদের খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের পাওনা অর্থ বুঝিয়ে দিয়েছে। তিনি জানান, জাতীয় দলের এই প্রাপ্য তহবিলটি অন্তত আট মাস আগেই তাদের হাতে এসে পৌঁছানো উচিত ছিল। এর আগে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন মৌখিকভাবে তাদের জানিয়েছিল, বর্তমান সভাপতিকে প্রকাশ্য সমর্থন দিলে জর্ডানের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে তাদের অভ্যন্তরীণ সংকট কাটিয়ে উঠতে বড় ধরনের সহায়তা করা হবে। রয়টার্সের তথ্যমতে, প্রশাসনিক ব্ল্যাকমেইলের এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে ফিফার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

তবে হঠাৎ করে বকেয়া অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রিন্স আলী অত্যন্ত স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই পাওনা অর্থ হাতে পাওয়ার বিষয়টি একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও, ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের বিষয়ে তার সংগঠন যে গভীর উদ্বেগ ও অনাস্থা প্রকাশ করেছে, তা বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হবে না। তিনি মনে করেন, টুর্নামেন্টের পুরস্কারের অর্থ আটকে রাখার মতো ঘটনাগুলো মূলত সেই একই প্রশাসনিক জটিলতার অংশ, যার মুখোমুখি স্বাধীন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলো প্রতিনিয়ত হচ্ছে। বিশেষ করে ফিফা সভাপতির নির্বাচন ঘনিয়ে এলে এ ধরনের রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

আগামী দিনের কর্মপন্থা নিয়ে জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি এবং তার সংস্থা কোনোভাবেই বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সমর্থন করবেন না এবং আগামী নির্বাচনে তাকে ভোটও দেবেন না। এদিকে গত বুধবার মরক্কোয় অনুষ্ঠিত এক জরুরি সংকটাপন্ন বৈঠকে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্ব ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিত্যক্ত প্রস্তাব নিয়ে সদস্যদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছে। আগামী মার্চ মাসে নির্ধারিত নির্বাচনে ইনফান্তিনো তার এক দশকের সভাপতিত্বকে চতুর্থ এবং চূড়ান্ত মেয়াদে আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। যা কম স্পষ্ট তা হলো, প্রিন্স আলীর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের এমন কঠোর ও প্রকাশ্য বিরোধিতার পর আসন্ন নির্বাচনে ইনফান্তিনো কীভাবে বৈশ্বিক ফুটবলে তার একক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবেন।

banner
Link copied!