জাপানে বিচ্ছেদ পরবর্তী পারিবারিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। গত ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে দেশটির সিভিল কোডের একটি সংশোধনী কার্যকর হয়েছে, যার ফলে বিবাহিত দম্পতিদের বিচ্ছেদের পরও সন্তানদের যৌথ জিম্মাদারি বা জয়েন্ট কাস্টডি রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জাপান জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র রাষ্ট্র ছিল, যারা যৌথ জিম্মাদারি আইন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিত না।পারিবারিক সম্পর্কের ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক।
এতদিন জাপানে বিচ্ছেদের পর সন্তানদের আইনি অধিকার সাধারণত একজন অভিভাবকের হাতেই থাকত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিচ্ছেদের পর যিনি সন্তানদের নিয়ে আলাদা হয়ে যেতেন, তিনিই জিম্মাদারি পেতেন। এই একক জিম্মাদারি প্রথা অনেক ক্ষেত্রে অন্য অভিভাবককে সন্তানদের জীবন থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দিত। এর ফলে সন্তানদের সাথে দেখা করার সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করত জিম্মাদার অভিভাবকের ইচ্ছার ওপর।
নতুন এই আইনের ফলে বিচ্ছেদ পরবর্তী পরিস্থিতিতে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ হলো জাপানের পরিবর্তিত জনতাত্ত্বিক চিত্র। দেশটিতে জন্মহার কমছে এবং জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার পরিবারগুলোকে আরও বেশি সহায়তা দিতে এবং একক অভিভাবকের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি শিশুদের মঙ্গলের জন্যই একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, কারণ উভয় অভিভাবকের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা শিশুদের মানসিক বিকাশে সহায়ক।
আইনটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক অভিভাবক যারা এতদিন সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন, তারা এই পরিবর্তনের মাধ্যমে আশার আলো দেখছেন। কিন্তু গৃহস্থালি সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই আইনটি ঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। অল জাপান উইমেনস শেল্টার নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার মা ও শিশুরা এই আইনের ফলে নির্যাতকের সংস্পর্শ থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যর্থ হতে পারেন।
আইনে সুরক্ষার বিধানও রাখা হয়েছে। বিচারক যদি নিশ্চিত হতে পারেন যে বিচ্ছেদের আগে পরিবারে গৃহস্থালি সহিংসতা বা নির্যাতনের কোনো রেকর্ড ছিল, তবে আদালত একক জিম্মাদারি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য থাকবেন। এখন দেখার বিষয়, জাপানের পারিবারিক আদালতগুলো এই জটিল ভারসাম্য কতটা কার্যকরভাবে রক্ষা করতে পারে।
