সোমবার, ০১ জুন, ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন-ইরান বিমান হামলা শুরু

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১, ২০২৬, ১১:৫৯ এএম

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন-ইরান বিমান হামলা শুরু

হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত জলসীমার কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে নতুন করে বিমান হামলা শুরু হয়েছে। শান্তি চুক্তি নিয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলার মাঝেই সপ্তাহান্তে দুই পক্ষই একে অপরের সামরিক স্থাপনায় আঘাত করার দাবি করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, তারা ইরানের গোরুক এবং কেশম দ্বীপে ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ও রাডার লক্ষ্য করে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করার কথা নিশ্চিত করেছে।হরমুজ প্রণালী এখন কার্যত অবরুদ্ধ।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, শনিবার ও রবিবারের এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় আমেরিকার একটি এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোন ভূপাতিত করার প্রতিক্রিয়ায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম উল্লেখ করেছে, মার্কিন ফাইটার জেটগুলো ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ স্টেশন এবং দুটি ড্রোন ধ্বংস করেছে। মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, এই ড্রোনগুলো ওই অঞ্চলে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছিল। হামলায় কোনো মার্কিন সেনা সদস্য আহত হননি বলেও নিউজরুমকে জানানো হয়েছে।

তবে ইরানের আইআরজিসি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি সামরিক প্রেক্ষাপট সামনে এনেছে। তাদের দাবি, পারস্য উপসাগরের সিরি দ্বীপের একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার জবাব দিতেই তারা কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটিকে নিশানা করেছে। ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মার্কিন আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হলে তেহরানের প্রতিক্রিয়া এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি।

এদিকে কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশের সীমানায় আসা বেশ কিছু শত্রুতাপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে। কুয়েতের অভ্যন্তরে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও ঠিক কোন এলাকায় এগুলোকে বাধা দেওয়া হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। গত সপ্তাহেও কুয়েতের একটি সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত করেছিল তেহরান।

এই সামরিক উত্তেজনার ঠিক আগেই মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একটি সম্ভাব্য স্থায়ী শান্তি চুক্তির খসড়ায় কিছু নতুন শর্ত বা সংশোধনীর দাবি তুলেছেন। খসড়া চুক্তিটিতে মূলত ৬০ দিনের জন্য সহিংসতা বন্ধ, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনার একটি রূপরেখা ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের আকস্মিক পরিবর্তনের অনুরোধের পর শান্তি আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না এবং ইরান এই নতুন প্রস্তাবকে উড়িয়ে দিয়েছে।

চলমান এই দ্বিমুখী অবরোধের কারণে বিশ্ব বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সাধারণত বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। দীর্ঘস্থায়ী এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।

banner
Link copied!