সোমবার, ০১ জুন, ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মিয়ানমারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে শিশুসহ অন্তত ৫৫ জনের মৃত্যু

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ১, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম

মিয়ানমারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে শিশুসহ অন্তত ৫৫ জনের মৃত্যু

মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শান রাজ্যের একটি গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে শিশুসহ অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। জান্তা-বিরোধী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী তায়াং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি বা টিএনএলএ নিয়ন্ত্রিত কাউং ট্যাট গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ২৫ জন নারী এবং ৩০ জন পুরুষ রয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে তাৎক্ষণিকভাবে পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং আকাশে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।দুর্ঘটনাকবলিত গ্রামটি চীন সীমান্তের কাছে অবস্থিত।

অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠী টিএনএলএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাথর কোয়ারি এবং খনিতে ব্যবহৃত বাণিজ্যিক বিস্ফোরক থেকে দুর্ঘটনাবশত এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। স্থানীয় সময় রবিবার দুপুর ১২টার দিকে এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের কারণে স্থানীয় অনেক গ্রামবাসী প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার পর প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিশাল একটি গর্ত তৈরি হয়েছে এবং চারপাশে পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ ও উপড়ে পড়া গাছপালা পড়ে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়াবহ এই পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে চরম আতঙ্ক ও বিভ্রান্তির কথা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বাসিন্দা লিখেছেন, প্রথম দিকে তীব্র শব্দের কারণে অনেকেই ভেবেছিলেন এটি হয়তো সরকারি বাহিনীর কোনো বিমান হামলা ছিল। বিস্ফোরণে প্রায় পুরো একটি আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শত শত ঘরবাড়ি ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, ঘরের ভেতরে থাকায় অল্পের জন্য তার প্রাণ বেঁচে গেলেও নিজের বাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ঘটনার পর পুরো গ্রামজুড়ে স্বজনহারা মানুষের কান্না ও হাহাকার ছড়িয়ে পড়ে। বহু পরিবার তাদের নিখোঁজ সদস্যদের সন্ধান করছিল। ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকার এত কাছে কেন এই বিপুল পরিমাণ বিপজ্জনক বিস্ফোরক মজুত রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানিয়েছে, এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে দায়ীদের জবাবদিহিতা এবং সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত তারা শান্ত হবেন না।

মিয়ানমারে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লিপ্ত থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি হলো টিএনএলএ। দেশটির অনেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাদের সামরিক অভিযানের তহবিল জোগাতে মূল্যবান খনিজ সম্পদ ও পাথর খনির ওপর নির্ভর করে। তবে খনিগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব থাকায় প্রায়শই ধস এবং এই ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

banner
Link copied!