বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ট্রাম্পের আব্রাহাম চুক্তির প্রস্তাব নাকচ করল সৌদি ও পাকিস্তান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৭, ২০২৬, ১২:১০ পিএম

ট্রাম্পের আব্রাহাম চুক্তির প্রস্তাব নাকচ করল সৌদি ও পাকিস্তান

ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আসা বিশেষ আহ্বান প্রকাশ্যেই নাকচ করে দিয়েছে পাকিস্তান ও সৌদি আরব। ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় তৈরি বহুল আলোচিত ‘আব্রাহাম চুক্তি’-তে নতুন করে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছে প্রভাবশালী এই দুই মুসলিম রাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।রিয়াদ ও ইসলামাবাদ তাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক অবস্থানেই অবিচল রয়েছে।

সৌদি আরবের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সাথে কোনো ধরনের আপস বা সম্পর্ক স্থাপন করবে না রিয়াদ। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ওয়াশিংটন প্রশাসনকে পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি ছাড়া এই অঞ্চলে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি সম্ভব নয়। প্রায় একই ধরনের সুর শোনা গেছে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে চলমান আঞ্চলিক ভূরাজনীতির অংশ হিসেবে কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, মিশর, জর্ডান ও তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি দেশকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে শামিল হওয়ার অনুরোধ জানান। ওয়াশিংটনের এই নতুন কূটনৈতিক চাপের মুখে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম সামা টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসলামাবাদের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন না যে পাকিস্তানের নিজস্ব মৌলিক আদর্শ ও রাষ্ট্রীয় নীতির সাথে সাংঘর্ষিক এমন কোনো চুক্তিতে দেশের যোগ দেওয়া উচিত।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ইসরাইলের বিশ্বস্ততা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলে বলেন, যাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির ওপর একটি দিনের জন্যও আস্থা রাখা যায় না, তাদের সাথে কোনো রাষ্ট্র কিভাবে অংশীদারিত্ব তৈরি করতে পারে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, পাকিস্তান আজ পর্যন্ত ইসরাইল রাষ্ট্রকে কোনো স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি এই কঠোর পাসপোর্ট নীতির কারণে কোনো পাকিস্তানি নাগরিক তাদের জাতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে ইসরাইল ভূখণ্ডে ভ্রমণ করতে পারেন না।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের দ্বিতীয় মেয়াদে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বা আব্রাহাম চুক্তিকে আরও বিস্তৃত করতে মরিয়া হয়ে উঠলেও ফিলিস্তিন সংকটকে আড়াল করে রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মতো পরাশক্তিগুলোকে রাজি করানো হোয়াইট হাউজের জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল এবং পরবর্তীতে মরক্কো ও সুদানও একই পথ অনুসরণ করে। গত বছর গাজায় যুদ্ধবিরতির পর ট্রাম্প আশা করেছিলেন সৌদি আরবও এই কাতারে আসবে, তবে রিয়াদ তার অনড় অবস্থানেই স্থির রয়েছে।

banner
Link copied!