সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

পশ্চিম তীরে নতুন বসতি স্থাপনে ইসরায়েলি পরিকল্পনা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৬, ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম

পশ্চিম তীরে নতুন বসতি স্থাপনে ইসরায়েলি পরিকল্পনা

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিখ অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন করে বসতি সম্প্রসারণের এক বিশাল পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তিনি একে বসতি নির্মাণের ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সম্প্রতি ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা পশ্চিম তীরের কেন্দ্রীয় অংশে ১৩টি নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই বসতিগুলোকে অবৈধ বলে গণ্য করা হলেও ইসরায়েল তাদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার লক্ষ্যে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎপর।

স্মোত্রিখ তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, এই সম্প্রসারণ কার্যক্রম কেবল পশ্চিম তীরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা নেগেভ এবং গালিলি অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে। বর্তমানে পশ্চিম তীরের কৌশলগত করিডোরগুলোতে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রুট ৬০ নামক সড়কটি, যা নাবলুস, রামাল্লা এবং বেথেলহেমের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফিলিস্তিনি শহরগুলোকে সংযুক্ত করে, তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বসতি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জর্ডান ভ্যালি পর্যন্ত বিস্তৃত এই করিডোরগুলো দখলের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে ছোট ছোট খণ্ডে বিভক্ত করার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা এই পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন যে, নতুন এই বসতিগুলো অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমকে পশ্চিম তীরের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যতের স্বপ্নের রাজধানী হিসেবে পরিচিত পূর্ব জেরুজালেম এভাবে বিচ্ছিন্ন হলে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ চিরতরে রুদ্ধ হয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান সত্ত্বেও ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী সরকার তাদের বসতি স্থাপনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

২০২২ সালে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার গঠনের পর থেকে বসতি সম্প্রসারণে এক অভূতপূর্ব গতি লক্ষ্য করা গেছে। এই সরকারে থাকা মন্ত্রীরা মূলত বসতি স্থাপনকারী আন্দোলনের প্রধান নেতৃবৃন্দ। ফিলিস্তিন ফোরাম ফর ইসরায়েলি স্টাডিজের তথ্যমতে, বর্তমান সরকার বসতি নির্মাণের জন্য রাষ্ট্রের তহবিল থেকে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করেছে, তা বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংসের ঘটনা বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বারবার সতর্ক করে আসছেন যে, এই বসতিগুলো কেবল আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি অত্র অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে বড় বাধা। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে এই সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে বৈধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে এবং তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে টিকে থাকার লড়াই ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে।

banner
Link copied!