সোমবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিইভ ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে রাশিয়া ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যমতে, এই ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। মস্কোর এই হামলার ফলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও স্পষ্টভাবে সামনে চলে এসেছে। যুদ্ধের চতুর্থ বছরে পদার্পণকারী ইউক্রেনের জন্য এটি একটি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কিইভে ১৩ জন এবং কিইভ অঞ্চলের অন্যান্য এলাকায় ৬ জন নিহত হয়েছেন। কিইভের প্রশাসনিক প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, রাজধানী শহরটিতে অন্তত ৫৬ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধানে দিনব্যাপী অভিযান চালিয়েছেন। হামলার তীব্রতায় বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু এলাকায় সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ফলে ভবনের একাংশ ধসে পড়েছে।
ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া এদিন রাতে মোট ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫০টিরও বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর ক্ষেত্রে ইউক্রেন হিমশিম খাচ্ছে। বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারলেও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে। প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের অভাবই এই ব্যর্থতার প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, মিত্র দেশগুলোর গুদামে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মজুত থাকা সত্ত্বেও তা ইউক্রেনে সরবরাহ না করায় রাশিয়া আবাসিক ভবনগুলোতে হামলার সাহস পাচ্ছে। জেলেনস্কি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর একটি বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তবে তার জন্য প্রয়োজন মিত্র দেশগুলোর শক্তিশালী সিদ্ধান্ত।
এই সপ্তাহে তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটোর একটি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সম্মেলনে জেলেনস্কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্যান্য বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানাবেন। কিইভ আশা করছে, এই সম্মেলন থেকে ইউক্রেনের সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট ও বলিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি আসবে।
এদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক দূরপাল্লার ড্রোন হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তারা কিইভের সামরিক ঘাঁটি, অস্ত্র কারখানা এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা পরিচালনা করেছে। তবে ইউক্রেন ও পশ্চিমা পর্যবেক্ষকদের মতে, এই হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের জীবন বিপন্ন করা হয়েছে। যুদ্ধের এই পর্যায়ে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
