লিভারপুলের সঙ্গে মোহাম্মদ সালাহর নয় বছরের সম্পর্কের ইতি ঘটছে। মিশরের নাগরিগ গ্রামের সেই কিশোর, যিনি একদিন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম মহাতারকা হয়ে উঠবেন—তা হয়তো সেই সময়ে কল্পনা করাও কঠিন ছিল। সালাহ অ্যানফিল্ড ছাড়ছেন একজন ক্লাব লেজেন্ড বা কিংবদন্তি হিসেবেই, যার পরিসংখ্যান ও অর্জন ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে অনেকদিন গেঁথে থাকবে।অ্যানফিল্ডে এটি সালাহর শেষ অধ্যায়।
ফ্লোরেন্সের ক্যাফেতে বসে মাইকা রিচার্ডসের সঙ্গে কথা বলার সময় সালাহ জানিয়েছিলেন, প্রিমিয়ার লিগে ফেরার স্বপ্ন তার সবসময়ই ছিল। তিনি বলেছিলেন, লিভারপুলের প্রতি তার এক বিশেষ টান রয়েছে। অথচ শুরুটা অন্যরকম হতে পারত। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে লিভারপুলের সঙ্গে চুক্তির একদম শেষ পর্যায়ে থাকা সালাহকে শেষ মুহূর্তে বাগড়া দিয়ে দলে টেনেছিল চেলসি। সেই ঘটনার পর লিভারপুল কর্মকর্তাদের রাগের কথা ফুটবল বিশ্বে এখনো আলোচিত হয়।
তবে লিভারপুল হাল ছাড়েনি। রোম ও ফিওরেন্তিনাতে খেলার সময়ও তারা সালাহর ওপর নজর রেখেছিল। ২০১৭ সালে যখন তারা তাকে দলে ভেড়ায়, তখন সেটি ছিল ক্লাবের ইতিহাসে রেকর্ড চুক্তি। অনেকেই তখন সন্দিহান ছিলেন যে চেলসিতে ব্যর্থ হওয়া এই খেলোয়াড় আদৌ সফল হতে পারবেন কি না। কিন্তু সালাহ প্রমাণ করেছিলেন তিনি কেবল ব্যর্থ হওয়ার জন্য আসেননি। জর্ডান হেন্ডারসন বা টম ক্লেভারলির মতো সতীর্থরা দেখেছেন, অনুশীলনের মাঠে সালাহ কীভাবে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
সালাহর সাফল্যের পেছনে ছিল তার কঠোর পরিশ্রম। কোর স্ট্রেন্থ বা শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে তিনি মধ্যরাতে সাঁতার কাটতেন। ডিবক্সের ভেতরে তার ক্ষিপ্রতা, দৌড়ের গতি এবং গোল করার অদ্ভুত ক্ষমতা তাকে প্রিমিয়ার লিগের ত্রাস করে তুলেছিল। ২৫৭টি গোল, দুটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়—তার পরিসংখ্যানই বলে দেয় তিনি কেন অ্যানফিল্ডের সেরা পাঁচ খেলোয়াড়ের একজন।
ফুটবল মাঠে তিনি ছিলেন অসম্ভব দয়ালু কিন্তু গোল করার ক্ষেত্রে ছিলেন নির্মম। লিভারপুলের সোনালী সময়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সালাহ যে অবদান রেখে গেছেন, তা ক্লাবের ইতিহাসে অসামান্য হয়ে থাকবে।
