সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

ইরানে খামেনেইয়ের শেষ বিদায়, বাড়ছে উত্তেজনা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৬, ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

ইরানে খামেনেইয়ের শেষ বিদায়, বাড়ছে উত্তেজনা

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের জানাজার শোভাযাত্রা সোমবার তেহরানের রাজপথে এক বিশাল জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় তিনি নিহত হন। মাসের পর মাস যুদ্ধের অস্থিরতা ও সামরিক উত্তেজনার পর আয়োজিত এই জানাজা দেশটির বর্তমান পরিস্থিতির এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জানাজার শোভাযাত্রাটি তেহরানের রেভোলিউশন স্কয়ার থেকে শুরু হয়ে আজাদি স্কয়ার পর্যন্ত অগ্রসর হয়। কালো পোশাকে সজ্জিত হাজার হাজার মানুষ শোকাবহ পরিবেশের মধ্য দিয়ে তাদের নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাদের অনেকের হাতে ছিল পতাকা এবং খামেনেইয়ের প্রতিকৃতি। সরকারি হিসাব ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, এদিন রাস্তায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটেছে, যারা খামেনেইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর স্লোগান দিয়েছেন।

তেহরানের এই শোভাযাত্রাটি মূলত সপ্তাহব্যাপী জানাজা কর্মসূচির একটি অংশ। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই আনুষ্ঠানিকতা আগামী বৃহস্পতিবার মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে তাকে দাফন করার মধ্য দিয়ে শেষ হবে। এর আগে মঙ্গল ও বুধবার ইরানের কোম শহর এবং ইরাকের কারবালা ও নাজাফে বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার কফিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই প্রায় ৩৬ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যু ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও দেশটির নতুন নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনী কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের জানাজা কেবল একটি শেষ বিদায় নয়, বরং এটি ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর জন্য শক্তি প্রদর্শনের একটি উপলক্ষ। দেশটির সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, এই শোকাবহ আয়োজনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ ইরানিরা তাদের সংহতি ও প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার বার্তা দিতে চায়। তবে তেহরানের রাজপথে চলমান এই বিশাল জনসমাগমের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাকর সম্পর্কের কারণে পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর এখন বিশ্বজুড়ে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

banner
Link copied!