কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন প্রযুক্তি ক্লদ মিথোসের মতো শক্তিশালী এআই টুলের দ্রুত উত্থান সাইবার নিরাপত্তা দুনিয়ায় বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চের শীর্ষ এথিক্যাল হ্যাকাররা আশঙ্কা করছেন, প্রযুক্তির এই অভূতপূর্ব অগ্রগতির ফলে ভবিষ্যতে তাদের পেশা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়বে। সম্প্রতি বার্লিনে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক হ্যাকিং প্রতিযোগিতা পিডব্লিউএনটুওনে শীর্ষ পুরস্কার জয়ী ভ্যালেন্টিনা পালমিওত্তি এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।সাইবার দুনিয়ায় তিনি `চোম্পি` নামে পরিচিত।
আইবিএম এক্স-ফোর্সের এই নিরাপত্তা গবেষক প্রতিযোগিতার একক ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে সফল ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। বর্তমানে এআই টুলগুলো তাকে সিস্টেমে থাকা ত্রুটি খুঁজে বের করতে এবং `বাগ বাউন্টি` জিততে সাহায্য করছে। কিন্তু ক্লদ মিথোসের মতো সিস্টেমগুলো যেভাবে তৈরি হচ্ছে, তাতে মানুষের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এই গতির সাথে প্রতিযোগিতা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। অ্যানথ্রোপিকের তৈরি করা এই নতুন এআই মডেলটি ইতিমধ্যে বিভিন্ন সফটওয়্যারের ১ হাজার ৬০০টির বেশি নিরাপত্তা ত্রুটি বা দুর্বলতা সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
এই অসম্ভব ক্ষমতার কারণে প্রযুক্তিটি এখনই সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, ঝুঁকি বিবেচনা করে এটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু দেশের সরকার এবং শীর্ষস্থানীয় সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পিডব্লিউএনটুওন প্রতিযোগিতায় এবার হ্যাকাররা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যারের ৪৭টি সম্পূর্ণ নতুন দুর্বলতা খুঁজে বের করে প্রায় ১৩ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার জিতেছেন। এর মধ্যে ভ্যালেন্টিনা পালমিওত্তি নিজে এনভিডিয়া এবং লিনাক্স ভিত্তিক সিস্টেমে সফল হ্যাক পরিচালনা করে ৭০ হাজার ডলারের পুরস্কার নিজের করে নেন।
টানা ২৪ ঘণ্টা না ঘুমিয়ে কাজ করার এই কঠিন প্রক্রিয়াকে ভ্যালেন্টিনা `জম্বি হ্যাকার মোড` বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে তার ভয়, আগামীতে ক্লদ মিথোস বা জিপিটি ৫.৫ সাইবারের মতো আরও উন্নত মডেল বাজারে এলে এই কষ্ট করার সুযোগও হয়তো আর থাকবে না। তখন সাধারণ বা মাঝারি মানের হ্যাকারদের আর কোনো প্রয়োজনই পড়বে না, শুধু একেবারে সেরাদের জন্য কিছু জায়গা অবশিষ্ট থাকতে পারে।
অবশ্য প্রতিযোগিতার আরেক শীর্ষ বিজয়ী, তাইওয়ানের অরেঞ্জ সাই কিছুটা ভিন্নভাবে ভাবছেন। তার দল এবার জটিল হ্যাকিংয়ের পথ তৈরি করে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলার ঘরে তুলেছে। অরেঞ্জ সাই মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো মানুষের কাজের গতি বাড়ানোর জন্য একটি দুর্দান্ত সহকারী মাত্র, যা তাদের গবেষণার সময় বাঁচিয়ে দেয়। মানুষের সৃজনশীলতা ও সহজাত অন্তর্দৃষ্টি সবসময় এমন কিছু সূক্ষ্ম ত্রুটি খুঁজে পাবে যা এআই হয়তো এড়িয়ে যাবে।
অপরাধী হ্যাকারদের ঠেকাতেও এই এআই প্রযুক্তিকে একটি বড় অস্ত্র হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সাইবার অপরাধীরাও এখন আক্রমণ ও ডেটা চুরির গতি বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার শুরু করেছে। তবে চূড়ান্ত বিচারে, এআই যদি দায়িত্বশীলভাবে এবং সঠিক নিয়মে ব্যবহার করা যায়, তবে এটি প্রতিরক্ষামূলক সাইবার নিরাপত্তাকে অনেক বেশি শক্তিশালী করবে।
