বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২

গোপন দান ও আল্লাহর সন্তুষ্টি: এক কৃপণ ব্যক্তির বদলে যাওয়ার গল্প

নিউজ ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ০১:০৬ এএম
গোপন দান ও আল্লাহর সন্তুষ্টি: এক কৃপণ ব্যক্তির বদলে যাওয়ার গল্প

লৌকিকতামুক্ত গোপন দান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় এবং তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

ইসলামে ইবাদতের প্রাণ হলো ইখলাস বা নিষ্ঠা। আমরা যখন কোনো নেক আমল করি, তখন তা কবুল হওয়ার মূল শর্ত হচ্ছে নিয়ত। মানুষ অনেক সময় মনে করে, তার দান যদি কোনো অযোগ্য ব্যক্তির হাতে পড়ে, তবে হয়তো তার সওয়াব নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু সহীহ হাদিসের একটি চমৎকার ঘটনা আমাদের শেখায় যে, দাতা যদি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং গোপনে দান করে, তবে সেই দানের বরকতে সমাজের বড় বড় পরিবর্তন সাধিত হতে পারে। রাসুলুল্লাহ ﷺ বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তির দান করার ব্যাকুলতা ও তার বিস্ময়কর পরিণতির কথা আমাদের বর্ণনা করেছেন।

এক ব্যক্তি একবার সিদ্ধান্ত নিলেন যে, তিনি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কিছু সম্পদ সদকা করবেন। তিনি অত্যন্ত গোপনে রাতের আঁধারে দান করার জন্য বের হলেন এবং প্রথম যাকে পেলেন তার হাতেই সদকার টাকা সোপর্দ করলেন। সকালে লোকমুখে আলোচনা হতে লাগল যে, গত রাতে জনৈক চোরকে সদকা দেওয়া হয়েছে। লোকটি মনে মনে কিছুটা দুঃখ পেলেন কিন্তু দমে গেলেন না। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! সব প্রশংসা আপনারই, আমার সদকা একজন চোরের হাতে পড়েছে। তিনি আবারও দ্বিতীয় রাতে দান করার সিদ্ধান্ত নিলেন। এবারও তিনি গোপনে এক ব্যক্তির হাতে অর্থ দিয়ে আসলেন। সকালে শোনা গেল, গত রাতে একজন ব্যভিচারিণী নারী সদকা পেয়েছে। লোকটি এবারও শোকর আদায় করে বললেন, হে আল্লাহ! সব প্রশংসা আপনারই, আমার দান একজন পাপাচারী মহিলার হাতে পড়েছে।

তিনি তৃতীয় রাতে আবার দান করতে বের হলেন এবং অন্য একজনের হাতে টাকা দিলেন। সকালে খবর ছড়াল যে, গত রাতে শহরের সবচেয়ে কৃপণ ও সম্পদশালী ব্যক্তিটি সদকা পেয়েছে। এবার লোকটি কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তিনি ভাবলেন, আমার তিনটি দানই কি তবে বিফলে গেল? প্রথমটি চোর, দ্বিতীয়টি পাপাচারী নারী আর তৃতীয়টি একজন ধনী কৃপণ ব্যক্তি পেল। কিন্তু মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে স্বপ্নযোগে বা ইলহামের মাধ্যমে সুসংবাদ জানানো হলো। তাকে বলা হলো, তোমার দান আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছে। কারণ, ওই চোর হয়তো সদকার টাকা পেয়ে চুরির পথ ছেড়ে দিতে পারে। ব্যভিচারিণী নারী হয়তো দারিদ্র্যের কারণে সেই পথে গিয়েছিল, তোমার দানে সে হয়তো পাপাচার ত্যাগ করতে পারে। আর ওই ধনী কৃপণ ব্যক্তি হয়তো তোমার এই দান দেখে লজ্জিত হয়ে নিজেও দান করার অনুপ্রেরণা পেতে পারে (সহীহ আল-বুখারী, ১৪২১)।

এই ঘটনাটি আমাদের জন্য এক গভীর সান্ত্বনা ও শিক্ষা। আমরা যখন কারো উপকার করি বা দান করি, তখন প্রতিদান পাওয়ার আশা কেবল আল্লাহর কাছ থেকে রাখা উচিত। মানুষের ভুলত্রুটি বা অযোগ্যতা আপনার সওয়াবকে নষ্ট করতে পারে না যদি আপনার উদ্দেশ্য সৎ থাকে। অনেক সময় আমাদের সামান্য একটু সহযোগিতার ফলে একজন অপরাধী তার ভুল বুঝতে পারে এবং সঠিক পথে ফিরে আসতে পারে। ইসলাম আমাদের শেখায় মানুষের বাহ্যিক রূপ দেখে বিচার না করে অন্তরের আকুতি দিয়ে সৃষ্টির সেবা করতে। এটিই হচ্ছে গোপন সদকার শক্তি যা আল্লাহর ক্রোধকে প্রশমিত করে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করে (সহীহ মুসলিম, ১০২২)। আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছে যাদের সাহায্য প্রয়োজন, আসুন লোক দেখানো দান ত্যাগ করে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হাত বাড়িয়ে দিই।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

হাদীস বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!