বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২

পরোপকারের মহিমা: একটি তৃষ্ণার্থ কুকুর ও জান্নাতের সুসংবাদ

নিউজ ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ১২:৫৩ এএম
পরোপকারের মহিমা: একটি তৃষ্ণার্থ কুকুর ও জান্নাতের সুসংবাদ

সৃষ্টির প্রতি দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব। ছবি: AI

ইসলামি শরীয়তে সৃষ্টির সেবা ও দয়া প্রদর্শনের গুরুত্ব অপরিসীম। মহান আল্লাহ যেমন মানুষের প্রতি দয়াবান, তেমনি তিনি চান তাঁর বান্দারাও যেন পৃথিবীর অন্যান্য সৃষ্টির প্রতি সদয় থাকে। সৃষ্টির সেবা যে কেবল সওয়াবের কাজ তা নয়, বরং এটি একজন মুমিনের জান্নাতে যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হতে পারে। রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের এমন অনেক ছোট ছোট আমলের কথা শুনিয়েছেন, যা দৃশ্যত সামান্য মনে হলেও আল্লাহর দরবারে তার মূল্য অনেক বেশি। বিশেষ করে পশুপাখির প্রতি দয়া প্রদর্শনের মাধ্যমে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও ক্ষমা লাভের এক অনন্য দৃষ্টান্ত আমরা সহীহ হাদিসের পাতায় দেখতে পাই।

একদা এক ব্যক্তি পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। মরুভূমির তপ্ত বালু আর রোদের তীব্রতায় তিনি প্রচণ্ড তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েন। পানির সন্ধানে চারপাশে তাকিয়ে তিনি একটি কূপ দেখতে পেলেন। তিনি কূপে নেমে নিজের তৃষ্ণা মেটালেন। তৃষ্ণা মিটিয়ে কূপ থেকে উঠে আসার পর তিনি এক অভাবনীয় দৃশ্য দেখতে পেলেন। তিনি দেখলেন, একটি কুকুর পিপাসায় কাতর হয়ে হাপাচ্ছে এবং তৃষ্ণার চোটে ভেজা মাটি চাটছে। লোকটির হৃদয়ে দয়ার উদ্রেক হলো। তিনি মনে মনে ভাবলেন, এই কুকুরটিরও ঠিক আমার মতোই প্রচণ্ড তৃষ্ণা পেয়েছে। তিনি দয়ার বশবর্তী হয়ে পুনরায় কূপে নামলেন। কিন্তু পানি তুলে আনার মতো কোনো পাত্র তাঁর কাছে ছিল না। অগত্যা তিনি নিজের চামড়ার মোজাটি খুলে তাতে পানি ভরলেন এবং সেটি মুখে কামড়ে ধরে কূপ থেকে উপরে উঠে এলেন। এরপর তিনি পরম মমতায় সেই তৃষ্ণার্থ কুকুরটিকে পানি পান করালেন।

সেই ব্যক্তির এই সামান্য দয়া ও পরিশ্রমটুকু মহান আল্লাহর কাছে এতটাই পছন্দ হলো যে, আল্লাহ তায়ালা তার এই আমল কবুল করে নিলেন এবং তাকে ক্ষমা করে জান্নাত দান করলেন (সহীহ আল-বুখারী, ২৩৬৩)। রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন এই ঘটনাটি সাহাবীদের বর্ণনা করছিলেন, তখন সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! পশুদের সেবা করার মধ্যেও কি আমাদের জন্য প্রতিদান রয়েছে? রাসুলুল্লাহ ﷺ উত্তরে বললেন, প্রত্যেক প্রাণবান সৃষ্টির সেবা করার মধ্যেই সওয়াব রয়েছে (সহীহ মুসলিম, ২২৪৪)।

এই ঘটনাটি আমাদের জীবনের জন্য এক গভীর শিক্ষা বহন করে। অনেক সময় আমরা বড় বড় নেক আমলের খোঁজে ব্যস্ত থাকি, অথচ নিজের অজান্তেই অন্যের প্রতি করা ছোট কোনো সদাচরণ আমাদের পরকালীন মুক্তির পথ প্রশস্ত করে দিতে পারে। ইসলাম কেবল ইবাদত-বন্দেগির নাম নয়, বরং এটি সৃষ্টির প্রতি দায়িত্ব পালনেরও শিক্ষা দেয়। একজন মানুষের চারিত্রিক উৎকর্ষ তখনই বোঝা যায়, যখন সে নিজের চেয়ে দুর্বল কোনো প্রাণীর প্রতি দয়া দেখায়। বর্তমান সময়ে যখন মানবিকতা ও প্রাণিকুলের প্রতি নিষ্ঠুরতা বাড়ছে, তখন এই হাদিসটি আমাদের হৃদয়ে কোমলতা সৃষ্টির জন্য এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে তাঁর সৃষ্টিকে ভালোবাসতে হবে। কারণ রহমতের নবী ﷺ স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন যে ব্যক্তি দয়া করে না, সে দয়া পায় না (সহীহ আল-বুখারী, ৫৯৯৭)। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত সামর্থ্য অনুযায়ী সৃষ্টির সেবা করা এবং ছোট কোনো নেক কাজকেই তুচ্ছ জ্ঞান না করা।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

হাদীস বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!