মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

সৌদিতে পৌঁছেছেন ৫২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হজযাত্রী

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১২, ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম

সৌদিতে পৌঁছেছেন ৫২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হজযাত্রী

চলতি বছরের পবিত্র হজ পালনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত ৫২ হাজার ৩৩৪ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। গত সোমবার দিবাগত রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ১৩৪টি ফ্লাইটের মাধ্যমে এই বিশাল সংখ্যক যাত্রী জেদ্দা ও মদিনার বিভিন্ন বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে হজ সম্পর্কিত সর্বশেষ বুলেটিনে এই পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছে ঢাকার হজ হেল্প ডেস্ক। এয়ারলাইনস, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের হজ অফিসের সমন্বিত তথ্যের ভিত্তিতে এই বুলেটিন প্রকাশ করা হয়েছে।

ফ্লাইট পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহন করেছে। বিমানের মোট ৬৩টি ফ্লাইটে ২৫ হাজার ৭৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এছাড়া সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইনস ‍‍`সৌদিয়া‍‍` ৪৯টি ফ্লাইটে ১৮ হাজার ৪০২ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৮৮৯ জন হজযাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে। এই যাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৪ হাজার ৭১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার অধীনে গিয়েছেন ৪৮ হাজার ২৬৩ জন।

২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের কোটা বা অনুমতি পেয়েছেন। বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে এ বছর মোট ৬৬০টি হজ এজেন্সি কাজ করছে। এর মধ্যে ৩০টি প্রধান এজেন্সি এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি সরাসরি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট যাত্রা শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাওয়া সেই উদ্বোধনী ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছিলেন। তারপর থেকে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিরতিহীনভাবে হজযাত্রীদের সৌদি আরব পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

হজ অফিসের চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, এ বছর মোট হজযাত্রীর মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফিরতি যাত্রার এই প্রক্রিয়া প্রায় এক মাস ধরে চলবে এবং আগামী ৩০ জুন সর্বশেষ ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। বর্তমানে সৌদিতে অবস্থানরত হজযাত্রীরা মক্কা ও মদিনার নির্ধারিত হোটেলগুলোতে অবস্থান করছেন এবং হজ কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ হজ মিশন ইতিমধ্যে জেদ্দা ও মক্কায় তাদের কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে যাতে হজযাত্রীরা কোনো অসুবিধার সম্মুখীন না হন। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ডাক্তার ও নার্সদের একটি বিশেষ দলও সেখানে অবস্থান করছে। সৌদি আরবে পৌঁছানো হজযাত্রীরা মদিনায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা জিয়ারত শেষে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন। আগামী কয়েক দিনে বাকি থাকা ২৬ হাজারের বেশি হজযাত্রীকে সৌদি আরবে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এয়ারলাইনসগুলো আশা করছে, কোনো ধরনের কারিগরি ত্রুটি বা শিডিউল বিপর্যয় না ঘটলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব যাত্রী পৌঁছাতে পারবেন।

banner
Link copied!