জাপানের জাতীয় রাগবি দলের প্রধান কোচ এডি জোনসকে চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে জাপান রাগবি ফুটবল ইউনিয়ন (জেআরএফইউ)। অস্ট্রেলিয়া সফর চলাকালীন স্থানীয় ম্যাচ কর্মকর্তাদের সাথে অশালীন আচরণ এবং মৌখিকভাবে গালিগালাজ করার দায়ে তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বুধবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জেআরএফইউ জানিয়েছে যে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ৬৬ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলিয়ান কোচের বেতনও কর্তন করা হয়েছে। জোনসের বিরুদ্ধে নৈতিকতা এবং শৃঙ্খলা বিধি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১ থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে যখন জাপানের অনূর্ধ্ব-২৩ দল অস্ট্রেলিয়া সফরে ছিল। সেই সফরে দলের সাথে থাকা এডি জোনস স্থানীয় ম্যাচ কর্মকর্তাদের ওপর মেজাজ হারিয়ে অসংলগ্ন ভাষা ব্যবহার করেন। জেআরএফইউ তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছে যে এই ধরনের আচরণ মাঠের শৃঙ্খলা এবং খেলোয়াড়ি সুলভ আচরণের পরিপন্থী। সংস্থাটি জানিয়েছে যে জোনস তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ এবং শাস্তির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। এর ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহ তাকে দলের সাথে কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে দেখা যাবে না।
শাস্তির মুখে থাকা এডি জোনস একটি ব্যক্তিগত বিবৃতিতে তার আচরণের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে তার করা কিছু মন্তব্য এবং ভাষা কর্মকর্তাদের জন্য অস্বস্তিকর ছিল। জোনস বলেন যে তিনি জেআরএফইউ-র নেওয়া এই ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশনকে সম্মান করেন এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে অঙ্গীকার করেছেন। পেশাদার ক্যারিয়ারে এর আগেও বিভিন্ন সময় বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য শিরোনাম হয়েছেন এই কোচ। তবে এবারের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা তার ক্যারিয়ারে এবং জাপানি রাগবির বর্তমান পরিকল্পনায় একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই নিষেধাজ্ঞার কারণে জোনস জাপানের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ডাগআউটে থাকতে পারবেন না। আগামী ৪ জুলাই টোকিওতে ইতালির বিরুদ্ধে জাপানের নেশনস চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে তিনি অনুপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া মে মাসের শেষ দিকে হংকংয়ের বিরুদ্ধে নির্ধারিত দুটি ম্যাচেও তিনি দল পরিচালনা করতে পারবেন না। আগামী ২৭ জুন নাগোয়ায় মাওরি অল ব্ল্যাকসের বিপক্ষে জাপানি ফিফটিন দলের হয়েও তিনি ডাচম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। সামগ্রিকভাবে আগামী ২৪ এপ্রিল থেকে ৫ জুন পর্যন্ত টানা ছয় সপ্তাহ তিনি তার পেশাদার দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
জাপানি রাগবি ইউনিয়ন এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি কড়া বার্তা দিতে চেয়েছে যে কোচের পদমর্যাদা যাই হোক না কেন শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। এডি জোনস বর্তমানে জাপানি রাগবিকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাওয়ার মিশনে কাজ করছেন। তবে মাঠের বাইরে তার এই আচরণ দলের তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয় যে এই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ওঠার পর এডি জোনস কীভাবে তার হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করেন এবং আগামী বড় টুর্নামেন্টগুলোতে দলকে কতটা গুছিয়ে নিতে পারেন।
