শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২

কেন আমাদের ইসলামিক লাইফস্টাইল বা জীবনধারা অনুসরণ করা উচিত?

নিউজ ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ১১:৩০ এএম
কেন আমাদের ইসলামিক লাইফস্টাইল বা জীবনধারা অনুসরণ করা উচিত?

সুন্নাহ ভিত্তিক সুশৃঙ্খল জীবনই প্রকৃত সুখের চাবিকাঠি। ছবি: AI

ইসলামিক লাইফস্টাইল বা ইসলামি জীবনধারা কোনো সাময়িক রুটিন নয়, বরং এটি একজন মুমিনের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী পরিচালিত করার একটি পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি। বর্তমানের এই যান্ত্রিক ও ব্যস্ত সময়ে মানুষ যখন মানসিক শান্তি ও শারীরিক সুস্থতার জন্য বিভিন্ন পশ্চিমা থিওরির পেছনে ছুটছে, তখন ইসলাম আমাদের দিয়েছে অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ও বিজ্ঞানসম্মত এক জীবনব্যবস্থা। ইসলামি জীবনধারার মূল ভিত্তি হলো পবিত্র কুরআন এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন: ”﴿قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ﴾ কুল ইন্না সালাতি ওয়া নুসুখি ওয়া মাহইয়াইয়া ওয়া মামাতি লিল্লাাহি রাব্বিল আলামিন।“ ”অর্থ: বলুন: আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।“ (সূরা আল-আন‘আম, ৬:১৬২)

একজন মুসলিমের দিন শুরু হয় ফজর সালাতের মাধ্যমে। খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা কেবল ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানেও এর অসংখ্য উপকারিতা প্রমাণিত। সকালের বরকতময় সময়ে কাজ শুরু করা এবং পরিমিত খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা ইসলামি জীবনধারার অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের শিখিয়েছেন পেটের তিন ভাগের এক ভাগ খাদ্য, এক ভাগ পানি এবং এক ভাগ বাতাসের জন্য খালি রাখতে। এই পরিমিতিবোধ মানুষকে দীর্ঘমেয়াদী রোগ থেকে মুক্তি দেয় এবং কর্মক্ষম রাখে। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব, কারণ হারাম আহার করলে ইবাদত কবুল হয় না। তাই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে প্রতিটি পদক্ষেপে হালাল-হারামের পার্থক্য বজায় রাখাই হলো প্রকৃত ইসলামিক লাইফস্টাইল।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তিগত রুচিবোধ ইসলামের অন্যতম শিক্ষা। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক” (সহীহ মুসলিম, ২২৩)। একজন মুসলিমের পোশাক হবে মার্জিত, শালীন এবং পরিচ্ছন্ন। এই জীবনধারায় পরনিন্দা, হিংসা এবং অনর্থক কাজ থেকে বেঁচে থাকার জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আধুনিক মনোবিজ্ঞান বলছে, যারা ইতিবাচক চিন্তা করে এবং মানুষের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে না, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য অনেক ভালো থাকে। ইসলাম আমাদের এই শিক্ষা চৌদ্দশ বছর আগেই দিয়েছে। এছাড়া পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বড়দের শ্রদ্ধা করা, ছোটদের স্নেহ করা এবং প্রতিবেশীর হক আদায় করার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ করাও এই জীবনধারার লক্ষ্য।

ইসলামিক লাইফস্টাইলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত একজন মানুষের দৈনন্দিন সময়কে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোতে নিয়ে আসে। এর ফলে অলসতা দূর হয় এবং প্রতিটি কাজে বরকত লাভ করা যায়। এছাড়া ঘুমানোর আগে এবং পরে সুন্নাহসম্মত দোয়া পাঠ, ডান কাতে ঘুমানো এবং মেসওয়াক করার মতো ছোট ছোট আমলগুলো আমাদের জীবনকে কেবল বরকতময় করে না, বরং স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা প্রদান করে। মনে রাখতে হবে, ইসলাম কেবল মসজিদের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আপনার হাসিমুখে কথা বলা, সততার সাথে ব্যবসা করা এবং পরিবারের সাথে ভালো সময় কাটানোও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।

পরিশেষে বলা যায়, ইসলামিক লাইফস্টাইল গ্রহণ করার অর্থ হলো নিজেকে একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল ফ্রেমে সাজিয়ে নেওয়া। এটি মানুষকে কেবল পরকালেই সফল করে না, বরং এই পৃথিবীতেও একটি সম্মানিত ও দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন উপহার দেয়। আমরা যদি আমাদের প্রতিটি কাজকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শেখানো পদ্ধতিতে রূপান্তরিত করতে পারি, তবেই আমাদের জীবন হবে সার্থক। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুন্নাহ ভিত্তিক জীবন গড়ার তৌফিক দান করুন।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

লাইফস্টাইল বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!