শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২

ইসলামিক লাইফস্টাইলে সময়ের গুরুত্ব: বরকতময় জীবনের গোপন রহস্য

নিউজ ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
ইসলামিক লাইফস্টাইলে সময়ের গুরুত্ব: বরকতময় জীবনের গোপন রহস্য

ইসলামিক লাইফস্টাইল বা ইসলামি জীবনধারার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে যে সময় কেবল অতিক্রান্ত হওয়া কোনো মুহূর্ত নয়, বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশাল আমানত। একজন মুসলিমের প্রতিটি সেকেন্ড অত্যন্ত মূল্যবান, কারণ কিয়ামতের ময়দানে প্রতিটি মানুষকে তার ব্যয়কৃত সময়ের হিসাব দিতে হবে। আধুনিক বিশ্বে আমরা যে ‘টাইম ম্যানেজমেন্ট’ নিয়ে এত আলোচনা শুনি, ইসলাম তার সমাধান দিয়েছে চৌদ্দশ বছর আগেই পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময়সূচীর মাধ্যমে। এই সালাতগুলো আমাদের জীবনকে একটি সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলায় বেঁধে দেয়, যা একজন মুমিনকে অলসতা ও অনর্থক কাজ থেকে দূরে রাখে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সময়ের শপথ করে ইরশাদ করেছেন: ”﴿وَالْعَصْرِ ۝ إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ﴾ ওয়াল আসর। ইন্নাল ইনসা-না লাফী খুসর।“ ”অর্থ: সময়ের কসম, নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত।“ (সূরা আল-আসর, ১০৩:১-২)

ইসলামিক লাইফস্টাইলে একজন মুমিনের সকাল শুরু হয় ফজরের বরকতময় সময়ে। রাসূলুল্লাহ ﷺ দোয়া করেছেন যেন তাঁর উম্মতের সকালের কাজে বরকত দেওয়া হয়। তাই যারা ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন এবং দিনের কাজ শুরু করেন, তারা স্বাভাবিকভাবেই অন্যদের তুলনায় বেশি কাজ করার সময় ও শক্তি পান। বর্তমানে অনেকেই রাত জেগে অনর্থক কাজ করেন এবং সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন, যা কেবল সুন্নাহর পরিপন্থী নয় বরং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। ইসলামিক জীবনধারা আমাদের শেখায় রাতের প্রথম প্রহরে ঘুমানো এবং শেষ প্রহরে জাগ্রত হওয়া, যা শরীরকে সতেজ রাখে এবং ইবাদতে একাগ্রতা বৃদ্ধি করে। এই সুশৃঙ্খল রুটিন একজন মানুষের জীবনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে এবং তাকে দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি দেয়।

একজন সচেতন মুসলিমের লাইফস্টাইলে অনর্থক কথাবার্তা ও কাজের কোনো স্থান নেই। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “একজন ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো তার জন্য অনর্থক বিষয়গুলো ত্যাগ করা” (সুনানে তিরমিজি, ২৩১৭)। বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অপচয় করা আমাদের আত্মিক উন্নতির পথে বড় বাধা। ইসলামিক লাইফস্টাইল আমাদের শিখায় এই সময়টুকুকে জিকির, কুরআন তিলাওয়াত কিংবা নতুন কিছু শেখার কাজে ব্যয় করতে। যখন আমরা আমাদের অবসর সময়কে গঠনমূলক কাজে ব্যবহার করি, তখন আমাদের জীবন অর্থবহ হয়ে ওঠে। প্রতিটি কাজ করার আগে নিয়ত শুদ্ধ করে নিলে এমনকি আমাদের বিশ্রাম এবং পরিবারের সাথে কাটানো সময়টুকুও ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়।

পরিশেষে, ইসলামিক লাইফস্টাইল আমাদের শেখায় অল্প সময়ে কীভাবে বেশি নেকি ও সফলতা অর্জন করা যায়। এটি আমাদের ধীরস্থির ও ধৈর্যশীল হতে শেখায়। আমরা যখন আমাদের জীবনকে কুরআন ও সুন্নাহর ছাঁচে ঢেলে সাজাই, তখন আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর রহমত ও বরকত শামিল হয়। সময়ের এই সংক্ষিপ্ত সফর শেষে আমরা যেন আল্লাহর সামনে হাসিমুখে দাঁড়াতে পারি, সেই প্রস্তুতিই হলো প্রকৃত ইসলামিক জীবনধারা। আসুন, আমরা আমাদের প্রতিদিনের রুটিনে সুন্নাহর প্রতিফলন ঘটাই এবং প্রতিটি মুহূর্তকে পরকালের পাথেয় হিসেবে গড়ে তুলি। আল্লাহ আমাদের সময়ের বরকত দান করুন এবং জীবনকে ইসলামের আলোয় আলোকিত করার তৌফিক দিন।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

লাইফস্টাইল বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!