শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২

চন্দ্রলোক ক্যাম্পিং সাইট এন্ড রিসোর্ট: রাঙ্গামাটি ভ্রমণের নতুন গন্তব্য

নিউজ ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ১১:২৬ এএম
চন্দ্রলোক ক্যাম্পিং সাইট এন্ড রিসোর্ট: রাঙ্গামাটি ভ্রমণের নতুন গন্তব্য

নদীর তীরে তাবু যাপনের রোমাঞ্চ

পাহাড় আর হ্রদবেষ্টিত রাঙ্গামাটির প্রাকৃতিক রূপ যুগে যুগে পর্যটকদের মুগ্ধ করে আসছে। তবে গতানুগতিক হোটেলের বাইরে যারা প্রকৃতির একেবারে কাছাকাছি থেকে রাত কাটাতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য রাঙ্গামাটির কাপ্তাই শিলছড়ি হাজিরটেক এলাকায় গড়ে উঠেছে এক নতুন গন্তব্য—চন্দ্রলোক ক্যাম্পিং সাইট এন্ড রিসোর্ট। হিল ল্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার-এর উদ্যোগে নির্মিত এই রিসোর্টটি মূলত পর্যটকদের নিরাপদ, শান্ত এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এক নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। কর্ণফুলী নদীর কোল ঘেঁষে অবস্থিত এই রিসোর্টটি নতুন হলেও খুব অল্প সময়েই প্রকৃতিপ্রেমীদের নজরে এসেছে। ইসলামি দর্শনে প্রকৃতির সৌন্দর্য অবলোকন করা এবং আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করা একটি পুণ্যময় কাজ, যা মানুষের অন্তরের প্রশান্তি বৃদ্ধি করে এবং বিনয় সৃষ্টি করে।

চন্দ্রলোক ক্যাম্পিং সাইট এন্ড রিসোর্টটি মূলত তাদের জন্য একটি আদর্শ স্থান, যারা বাজেট-ফ্রেন্ডলি উপায়ে ক্যাম্পিং করার অভিজ্ঞতা নিতে চান। আধুনিক প্রিমিয়াম কটেজের পাশাপাশি এখানে পর্যটকদের জন্য রয়েছে মানসম্মত তাবু বা টেন্টে থাকার বিশেষ ব্যবস্থা। যারা নাগরিক কোলাহল ভুলে নদীর কলতান শুনতে শুনতে তাবুর নিচে রাত কাটাতে চান, তাদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় সুযোগ। রিসোর্টের প্রিমিয়াম কটেজগুলোতে রাত্রিযাপনের জন্য ৩,৫০০ টাকা থেকে ৪,৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। অন্যদিকে, যারা ক্যাম্পিং বা তাবু যাপনের রোমাঞ্চ নিতে চান, তারা ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকার বিশেষ প্যাকেজে এখানে থাকতে পারবেন। এই ব্যবস্থাটি বিশেষ করে তরুণ পর্যটক এবং অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

যাতায়াতের দিক থেকে চন্দ্রলোক রিসোর্টটি বেশ সুবিধাজনক স্থানে অবস্থিত। ঢাকা থেকে যারা আসতে চান, তারা সায়েদাবাদ বা আরামবাগ থেকে হানিফ, এস.আলম কিংবা শ্যামলী পরিবহনের বাসে সরাসরি কাপ্তাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পারেন। বাস ভাড়া সাধারণত ৮০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। পর্যটকদের কাপ্তাইয়ের শিলছড়ি বা হাজিরট্যাক মোড়ে নামতে হবে, যেখান থেকে সহজেই কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত এই রিসোর্টে পৌঁছানো যায়। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম থেকে আসতে চাইলে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে প্রতি ১৫-২০ মিনিট পর পর বিরতিহীন বাস পাওয়া যায়। মাত্র ১০০ থেকে ১২০ টাকা ভাড়ায় শিলছড়ি বাজারে নেমে খুব কাছেই এই রিসোর্টের অবস্থান খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

ভ্রমণের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে স্থানীয় খাবারের স্বাদ গ্রহণ। চন্দ্রলোক ক্যাম্পিং সাইট এন্ড রিসোর্ট তাদের নিজস্ব রেস্টুরেন্টে কাপ্তাইয়ের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করে থাকে। এখানকার বিশেষ আকর্ষণ হলো ‘ব্যাম্বু চিকেন’ বা বাঁশের ভেতর রান্না করা মুরগি এবং কর্ণফুলী নদীর টাটকা সুস্বাদু মাছ। এছাড়া পাহাড়ের শীতল পরিবেশে রাতের বেলায় ক্যাম্প ফায়ার এবং বারবিকিউ করার চমৎকার সুবিধা রয়েছে পর্যটকদের জন্য। পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের নিয়ে আগুনের পাশে বসে কর্ণফুলী নদীর হাওয়ায় সময় কাটানো এক অপার্থিব অনুভূতি তৈরি করে। তবে ভ্রমণের সময় আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয় এবং স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান বজায় থাকে।

রাঙ্গামাটির নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে আরও কাছ থেকে দেখার এবং প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে থাকার জন্য চন্দ্রলোক ক্যাম্পিং সাইট একটি নির্ভরযোগ্য নাম। নিরাপদ পরিবেশ এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সমন্বয় এখানে পর্যটকদের এক নতুন প্রশান্তি দেয়। আল্লাহর এই সুন্দর ধরণীর রূপ উপভোগ করার সময় প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁর শুকরিয়া আদায় করা উচিত। চন্দ্রলোক রিসোর্টের মতো উদ্যোগগুলো আমাদের দেশের পর্যটন শিল্পকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলছে এবং মানুষকে সুস্থ বিনোদনের সুযোগ করে দিচ্ছে। কর্ণফুলী নদীর তীরে এমন একটি শান্ত ও সুন্দর পরিবেশে সময় কাটানো আপনার ভ্রমণ ডায়েরিতে এক রঙিন স্মৃতি হয়ে থাকবে।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

ভ্রমণ বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!