রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

স্যামসাং গ্যালাক্সি S26 সিরিজ: বাইরে এক থাকলেও ভেতরে বড় চমক

উম্মাহ কণ্ঠ ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ১২:১২ এএম
স্যামসাং গ্যালাক্সি S26 সিরিজ: বাইরে এক থাকলেও ভেতরে বড় চমক

স্মার্টফোনের বাজারে স্যামসাং গ্যালাক্সি S26 সিরিজের উন্মোচন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে এই ডিভাইসটি নিয়ে লিক হওয়া তথ্যের জোয়ার বইছে। তবে সবচেয়ে বড় যে গুঞ্জনটি শোনা যাচ্ছে তা হলো—ডিজাইন বা ক্যামেরার বাহ্যিক গঠনে এবার হয়তো খুব বড় কোনো পরিবর্তন আনছে না দক্ষিণ কোরিয়ান এই টেক জায়ান্ট। কিন্তু অভিজ্ঞ সাংবাদিক এবং প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ফোনের উপরের অংশ দেখে বিচার করলে এবার ভুল হবে। স্যামসাং তাদের কৌশলে আমূল পরিবর্তন এনেছে। তারা এবার হার্ডওয়্যারের চেয়ে ফোনের ‍‍`মস্তিষ্ক‍‍` বা প্রসেসিং ক্ষমতার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে গ্যালাক্সি AI-এর বিবর্তন এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন হতে যাচ্ছে এই সিরিজের মাধ্যমে।

২০২৬ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI কোনো নতুন শব্দ নয়, কিন্তু স্যামসাং একে দেখছে সম্পূর্ণ ভিন্ন নজরে। তাদের লক্ষ্য হলো ‍‍`ইনভিজিবল অ্যাসিস্ট্যান্ট‍‍` বা অদৃশ্য সহকারী তৈরি করা। গ্যালাক্সি S26 সিরিজে AI এমনভাবে কাজ করবে যা ব্যবহারকারী টেরই পাবেন না, কিন্তু তার কাজগুলো অনেক সহজ হয়ে যাবে। যেমন—স্মার্টফোনটি এখন আর কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের মানিব্যাগ, স্মৃতিঘর এবং কর্মক্ষেত্র। গ্যালাক্সি AI ব্যাকগ্রাউন্ডে থেকে আপনার পুরনো কোনো ছবি দ্রুত খুঁজে দেওয়া, মাল্টিটাস্কিং করার সময় প্রয়োজনীয় অ্যাপটি সামনে রাখা কিংবা দৈনন্দিন রুটিন মাফিক কাজের পরিকল্পনা তৈরি করে দেবে। স্যামসাংয়ের দর্শন হলো—প্রযুক্তি এমন হওয়া উচিত যা আপনাকে ফোন চালানো শেখাবে না, বরং আপনাকে আপনার জীবন উপভোগে সাহায্য করবে।

বাস্তব জীবনে সুরক্ষার বিষয়টি এখন ব্যবহারকারীদের প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনাকীর্ণ স্থানে বা গণপরিবহনে ফোন ব্যবহারের সময় পাশের মানুষটি স্ক্রিনে উঁকি দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে অনেকেই অস্বস্তিতে থাকেন। স্যামসাং এই সমস্যার এক বৈপ্লবিক সমাধান নিয়ে এসেছে যার নাম ‍‍`পিক্সেল-লেভেল প্রাইভেসী‍‍`। ফোর্বস এবং ম্যাশবল-এর মতো নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, গ্যালাক্সি S26 সিরিজে একটি বিল্ট-ইন প্রাইভেসী মোড থাকবে। এটি সক্রিয় করলে স্ক্রিনটি সোজা থেকে পরিষ্কার দেখা গেলেও পাশ থেকে কেউ তাকালে কিছুই দেখতে পাবে না। এটি কোনো আলগা প্রাইভেসী গ্লাস নয়, বরং স্ক্রিনের পিক্সেলগুলোই সফটওয়্যারের মাধ্যমে এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে যা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য যেমন পাসওয়ার্ড বা ওটিপি পাশের মানুষের চোখ থেকে রক্ষা করবে।

গ্যালাক্সি S26 সিরিজে জেনারেটিভ AI বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ছবি তৈরির ক্ষেত্রেও এসেছে বড় পরিবর্তন। আগে এ ধরনের কাজের জন্য ক্লাউড সার্ভারের প্রয়োজন হতো, যা তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিত। তবে নতুন এই সিরিজে ‍‍`ইনস্ট্যান্ট AI ইমেজ জেনারেশন‍‍` ফিচারটি সম্পূর্ণভাবে ‍‍`অন-ডিভাইস‍‍` বা ফোনের নিজস্ব প্রসেসরে কাজ করবে। এর ফলে আপনার তৈরি করা ডিজাইন বা ব্যক্তিগত তথ্য ফোনের বাইরে যাবে না। এর সাথে যুক্ত হয়েছে স্যামসাং নক্স (Knox) সিকিউরিটি প্ল্যাটফর্ম, যা হার্ডওয়্যার লেভেলে তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে। অর্থাৎ আপনার সৃজনশীলতা এবং ব্যক্তিগত ডেটা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ।

সব মিলিয়ে স্যামসাং গ্যালাক্সি S26 সিরিজটি তাদের জন্য যারা কেবল ফোনের চাকচিক্য নয়, বরং ডিভাইসের বুদ্ধিমত্তা এবং নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেন। যদিও ফোনের বাইরে থেকে বড় কোনো বদল চোখে পড়বে না, তবে ভেতরে থাকা স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ চিপসেট (আল্ট্রা মডেলের জন্য) এবং ওয়ান ইউআই ৮.৫-এর সমন্বয় এই ফোনটিকে একটি শক্তিশালী কম্পিউটারে পরিণত করবে। স্যামসাং তাদের এই নতুন ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চায় যে তারা কেবল ফোন বিক্রি করে না, বরং মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে সহজ করার একটি মাধ্যম উপহার দেয়। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ হওয়ার পর জানা যাবে এই ‍‍`অদৃশ্য বিপ্লব‍‍` গ্রাহকদের মনে কতটা জায়গা করে নিতে পারে।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

প্রযুক্তি বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!