স্মার্টফোন জগতের শীর্ষ জায়ান্ট অ্যাপল তাদের সাশ্রয়ী ‘ই’ সিরিজের পরবর্তী সংস্করণ আইফোন ১৭ই (iPhone 17e) বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রযুক্তি বিশ্বে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো এই নতুন আইফোনের ডিজাইন ও সম্ভাব্য ফিচারের পরিবর্তন। জনপ্রিয় টেক ইউটিউবার জন প্রোসার সম্প্রতি একটি ভিডিওতে আইফোন ১৭ই-এর প্রথম ঝলক দেখিয়েছেন যা আইফোন প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অ্যাপল এই ফোনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করতে পারে। যদিও অ্যাপল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি তবে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং সাপ্লাই চেইন থেকে পাওয়া তথ্য বলছে যে এই নতুন মডেলে ডিজাইনের ক্ষেত্রে কিছু বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। বিশেষ করে পুরনো নচ ডিজাইন বাদ দিয়ে এবার সাশ্রয়ী মডেলেও ‘ডাইনামিক আইল্যান্ড’ যুক্ত করার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে যা এই ফোনটিকে একটি প্রিমিয়াম লুক প্রদান করবে।
ডিজাইনের ক্ষেত্রে আইফোন ১৭ই তার পূর্বসূরি আইফোন ১৬ই-এর মতোই অনেকটা কমপ্যাক্ট এবং হালকা হতে পারে। ফোনটিতে ৬.১ ইঞ্চির ওএলইডি ডিসপ্লে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে যার রিফ্রেশ রেট হবে ৬০ হার্টজ। যদিও প্রিমিয়াম মডেলগুলোতে ১২০ হার্টজ প্রো-মোশন ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয় তবে দাম সাশ্রয়ী রাখতে এই মডেলে পুরনো রিফ্রেশ রেটই বজায় রাখা হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে ফোনের সামনের ক্যামেরা প্যানেল। যদি ডাইনামিক আইল্যান্ড ফিচারটি যুক্ত করা হয় তবে এতে ১৮ মেগাপিক্সেলের একটি নতুন সেলফি সেন্সর দেখা যেতে পারে যা ভিডিও কল এবং সেলফির মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এছাড়া ফোনের পেছনে ৪৮ মেগাপিক্সেলের একটি শক্তিশালী ফিউশন ক্যামেরা থাকার কথা রয়েছে যা এ১৯ চিপসেটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে আরও উন্নত ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম হবে। মূলত যারা কম বাজেটে উন্নত ক্যামেরা ও প্রসেসর খুঁজছেন তাদের জন্যই এই ফোনটি তৈরি করছে অ্যাপল।
হার্ডওয়্যারের দিক থেকে আইফোন ১৭ই-তে অ্যাপলের সর্বশেষ শক্তিশালী এ১৯ চিপসেট ব্যবহার করা হতে পারে। এটি ফোনের পারফরম্যান্সকে আগের মডেলের চেয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে দেবে। এর সাথে ৮ জিবি র্যাম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে যা অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স বা এআই ফিচারগুলো মসৃণভাবে চালাতে সাহায্য করবে। কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। এতে অ্যাপলের নিজস্ব সি১এক্স মডার্ন এবং এন১ ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক চিপসেট ব্যবহার করা হতে পারে যা উন্নত ৫জি স্পিড এবং স্থিতিশীল ব্লুটুথ ও ওয়াইফাই সংযোগ নিশ্চিত করবে। ব্যাটারির ক্ষমতা ৪০০০ এমএএইচ-এর কাছাকাছি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে যা সারাদিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট। তবে এবারের একটি বড় সংযোজন হতে পারে ‘মেগসেফ’ (MagSafe) চার্জিং সাপোর্ট। আইফোন ১৬ই-তে এটি না থাকলেও ১৭ই মডেলে মেগসেফ যুক্ত করার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা দ্রুত ওয়্যারলেস চার্জিং এবং বিভিন্ন ম্যাগনেটিক অ্যাক্সেসরিজ ব্যবহারের সুবিধা পাবেন।
রঙের ক্ষেত্রে অ্যাপল এবার বৈচিত্র্য আনতে পারে। প্রচলিত কালো ও সাদা রঙের পাশাপাশি একটি নতুন ‘ল্যাভেন্ডার’ বা হালকা বেগুনি রঙে ফোনটি বাজারে আসতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। দামের বিষয়ে ফাঁস হওয়া তথ্য বলছে যে ১২৮ জিবি স্টোরেজ ভেরিয়েন্টের জন্য আইফোন ১৭ই-এর দাম শুরু হতে পারে ৫৯৯ মার্কিন ডলার থেকে যা বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী প্রায় ৭০ হাজার টাকার আশেপাশে হতে পারে। তবে কিছু লিকস বলছে যে অ্যাপল প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে স্টোরেজ বাড়িয়ে সরাসরি ২৫৬ জিবি থেকে শুরু করতে পারে। যদি এই তথ্য সত্যি হয় তবে এটি হবে চলতি বছরের সবচেয়ে ভ্যালু-ফর-মানি আইফোন। যদিও জন প্রোসার তার ভিডিওতে ডিজাইনের পরিবর্তন নিয়ে শতভাগ নিশ্চিত নন তবে তিনি মনে করেন অ্যাপল যদি এবারও নচ ডিজাইন রাখে তবে তা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পিছিয়ে পড়ার কারণ হতে পারে।
সার্বিকভাবে আইফোন ১৭ই হতে যাচ্ছে এমন একটি ফোন যা আধুনিক ফিচারের সাথে সাশ্রয়ী দামের এক চমৎকার সমন্বয়। মেগসেফ সাপোর্ট, উন্নত এ১৯ চিপ এবং ডাইনামিক আইল্যান্ডের মতো ফিচারগুলো এই ফোনটিকে গ্রাহকদের পছন্দের শীর্ষে নিয়ে আসতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে যে এগুলো সবই এখনও পর্যন্ত প্রাথমিক লিকস এবং গুঞ্জন। চূড়ান্ত সত্য জানতে আমাদের আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে যখন অ্যাপল আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নিউজরুমে ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করবে। যদি ১৯ ফেব্রুয়ারির লঞ্চের তথ্য সঠিক হয় তবে ফোনটি মার্চের শুরু থেকেই বিশ্ববাজারে পাওয়া যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন :