বুধবার, ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২

কাবা শরীফের গিলাফ কাটার চেষ্টায় তুর্কি নারী আটক

উম্মাহ কণ্ঠ মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
কাবা শরীফের গিলাফ কাটার চেষ্টায় তুর্কি নারী আটক

মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম প্রাঙ্গণে কাবা শরীফের গিলাফ বা কিশওয়াহ কাটার চেষ্টার অভিযোগে তুরস্কের এক নারীকে আটক করেছে সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্ত ওই নারী একটি হজ কাফেলার সদস্য হিসেবে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা থেকে জানা যায়, তিনি অত্যন্ত গোপনে একটি কাঁচি ব্যবহার করে গিলাফের একটি অংশ কেটে নেওয়ার চেষ্টা চালান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো বিশেষ ধর্মীয় আবেগ বা ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই তিনি গিলাফের কাপড়টি সংগ্রহ করতে চেয়েছিলেন।

ঘটনাটি ঘটার সময় আশেপাশে উপস্থিত অন্যান্য মুসল্লিরা বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক করেন। ইসলামের বিধান এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী পবিত্র গিলাফের সামান্যতম ক্ষতি করা বা তা কেটে নেওয়া যে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, সেই বিষয়টিও তাকে জানানো হয়। তবে উপস্থিত মুসল্লিদের তীব্র প্রতিবাদ ও বারবার সতর্কবাণী সত্ত্বেও তিনি তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা সদস্যরা উপস্থিত হন এবং ওই নারীকে সরিয়ে নিয়ে যান। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তখন হারাইন শরীফাইন এলাকায় উপস্থিত হজযাত্রী ও ওমরাহ পালনকারীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আটক নারীর পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। অনেক ফেসবুক পোস্ট ও ভিডিওতে তাকে মিশরের নাগরিক হিসেবে দাবি করা হলেও পরবর্তীতে নির্ভরযোগ্য অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি মূলত তুরস্কের নাগরিক। তিনি একটি তুর্কি হজ দলের সঙ্গেই সৌদি আরব সফরে এসেছিলেন। আটকের পর ওই নারীর বর্তমান আইনি অবস্থা বা এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনো গণমাধ্যমে আসেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে স্থানীয় পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য যে, কাবা শরীফের গিলাফ বা কিশওয়াহ বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও শ্রদ্ধার এক অনন্য প্রতীক। খাঁটি রেশমি কাপড়ে সোনালি ও রুপালি সুতার কারুকাজে কুরআনের আয়াত খচিত এই গিলাফের মর্যাদা রক্ষায় সৌদি প্রশাসন সবসময়ই আপসহীন ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্রীয় আইনে গিলাফ ক্ষতিগ্রস্ত করা একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। ইতিপূর্বেও এ ধরনের চেষ্টার বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ‍‍`জিরো টলারেন্স‍‍` নীতি প্রদর্শন করেছে। মূলত পবিত্র নিদর্শনের পবিত্রতা বজায় রাখতেই সৌদি আরব এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

সংবাদ বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!